একই স্থানে সম্মেলন ডাকায় আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৪৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৯, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষকুমিল্লার বরুড়ায় একই স্থানে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সম্মেলনের ডাক নিয়ে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ দুই গ্রুপের অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বরুড়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে, দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে আরও সংঘর্ষের আশঙ্কায় সম্মেলন স্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুল ইসলাম বরুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সম্মেলনস্থলে এসে হ্যান্ড মাইকে ১৪৪ ধারা জারির কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।সম্মেলনস্থলের ব্যানারে অগ্নিসংযোগ

দলীয় সূত্র জানায়, বরুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের এই তারিখ ঘোষণা করেন। অপরদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম মইনুল ইসলাম সমর্থিত বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষ একই দিন, একই স্থানে পৃথকভাবে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন করার ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।

শনিবার সকাল থেকেই দুই পক্ষের কর্মীরা ঈদগাহ মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় বরুড়া থানার পুলিশের এএসআই  দোলনসহ দুই গ্রুপের অন্তত আট জন নেতাকর্মী আহত হন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং আওয়ামী লীগের উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঠ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন।কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘একই স্থানে দুই পক্ষ সম্মেলনের ডাক দেওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল আমাদের না জানিয়ে সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া জেলা কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে আছেন। তাকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তাই আমরাও কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এই অবস্থায় ১৪৪ ধারা জারি করলো প্রশাসন।’

নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এমপি বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। আমরা ওই স্থানে সম্মেলন আহ্বান করি অনেক আগেই। তবে ওই খানে আওয়ামী লীগের অন্য কেউ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে কিনা সেটা আমি জানি না।’

 

/এফএস/

লাইভ

টপ