বর্ণিল নারায়ণগঞ্জের আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়াম

Send
আমির হুসাইন স্মিথ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১৫:২৬, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪১, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

 

নানা রঙয়ের ঘুড়ি

ঘুড়ি উৎসবের জন্য টানানো ডেকোরেটরের কাপড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি ঘুড়ি। কোনোটা বাংলাদেশের পতাকা, কোনোটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কোনোটা আবার লক্ষী প্যাঁচা কোনোটা হাতির মতো। শিশুরা ভিড় করে ঘুড়িগুলো দেখছে। মাঠের অন্য পাশে কেউ কেউ চেষ্টা করছে ঘুড়ি ওড়াতে। বাতাস না থাকায় ঘুড়ি ওড়ানো কঠিন। বিশেষ করে বড় ঘুড়ি ওড়ানো। বিশাল এক ঘুড়ি ছোটরা ধরে ‘দোলনি’ দিল। আর সুতা ধরে দৌড় দিয়ে ঘুড়িটি ওড়ালেন নগরীর পাইকপাড়ার মধ্য বয়সী বাদল হোসেন।

কেন ঘুড়ি উৎসবে এলেন? উত্তরে বাদল হোসেন বললেন, ‘আমাদের সময় বেশ বড় হয়েও আমরা ঘুড়ি উড়িয়েছি। মেয়েরা, মায়েরাও আমাদের সঙ্গে থাকতো। এটা একটা পারিবারিক বিনোদন ছিল। কিন্তু এখন জায়গা ও পরিবেশ না থাকায় বাচ্চারা ঘুড়ি উড়াতে পারে না। আজ সুযোগ পেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুড়ি উড়াতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।’

বাবা আহমদ আলী রেজা উজ্জ্বলের সঙ্গে এসেছে প্লে পেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মৃত্তিকা ও তার চাচাতো ভাই আহমেদ জারিফ চুনকা।

ঘুড়ি উড়ানোর চেষ্টা করছেন যুবক-কিশোররা

মৃত্তিকা বললো, ‘স্কুলে ঘুড়ির অনেক ছবি এঁকেছি। কিন্তু ঘুড়ি কিভাবে উড়ায় এবং নাটাই যে হাত দিয়ে ঘুড়াতে হয় এটা আমি জানতাম না।’

নাটাই কিভাবে ঘোরে ভেবেছিলে? উত্তরে মৃত্তিকা বললো, ‘ভেবেছিলাম নাটাই মেশিনে ঘোরে।’

নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা উম্মে লায়লা বললো,‘আমাদের স্কুলের বেশ কয়েকজন বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি। অনেকে ঘুড়িই চিনতো না। এখানে এসে চিনলো।’

আয়োজনে আরও আছে ঢাকের ব্যবস্থা। ঢাকের বাজনা উৎসবকে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। মাঠে বসে থেকে উৎসব উপভোগ করছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

তিনি জানান, ‘ঘুড়ি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এ কারণে পাকিস্তান আমলে শাসকদের ঘুড়ির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেছি। চীনে ঘুড়ি উৎসব রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। পুরো চীন একদিন ঘুড়ির জন্য পাগল হয়ে যায়। তাদের বিশাল আকাশের সঙ্গে সখ্যতা হয় ঘুড়ির মাধ্যমে। মনটা বড় হয়ে যায়। আমাদের দেশেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘুড়ি উৎসব পালন করা প্রয়োজন।’

নারায়ণগঞ্জের মানুষ ঘুড়ি ওড়ায় বর্ষাকালে। বর্ষার দস্যি বাতাসের সঙ্গে লড়াই করে আকাশে ঘুড়ি উড়ানো নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য। কিন্তু শীতকালে নগরীর জিমখানার আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ ঘুড়ি উৎসব সাড়া জাগিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। নারায়ণগঞ্জে দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করা হলো এ ঘুড়ি উৎসব।

নারায়ণগঞ্জ ঘুড়ি উৎসব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি জাহিদুল হক দীপু বলেন, ‘উঁচু ভবনের কারণে নগরের মানুষ আকাশ দেখতে পায় না। দূষণে মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন। ঘুড়ি আমাদের প্রকৃতির কাছে নিয়ে যায়। প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখায়। এজন্য আমাদের এ আয়োজন।’

সন্ধায় চমৎকার আতশবাজী ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ