স্কুলমাঠের মাটি কেটে নিজ জমি ভরাট করছেন প্রধান শিক্ষক!

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:০৬, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৭, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯




স্কুলমাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ করা শ্রমিকরাকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কুরুষাফেরুষা খন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয় মাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু মাঠের মাটি নয়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের গাছের ডালও কেটে নিয়ে গিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

তবে প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানের দাবি, বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন ঠিকই, কারণ ওই জমি তার পৈতৃক সম্পত্তি।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ পাশ থেকে মাটি কেটে ট্রলি ভর্তি করে নিজের পতিত জমি ভরাট করার কাজে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষকের শ্রমিকরা। মাটি কেটে নেওয়ায় বিদ্যালয় মাঠটি আরও ছোট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাঠের পাশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় রফিক মিয়া, আব্দুর রহীম ও নুরবানু বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন প্রধান শিক্ষক কোন আইনে স্কুলমাঠের মাটি কেটে নিয়ে যান? তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের গাছও কাটার চেষ্টা করছেন। আমরা বাধা দিলেও তিনি কোনোভাবে তা মানছেন না। পরে গোপনে গাছের ডাল-পালা কেটে বাড়িতে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক।’

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, এমনিতে আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ ছোট। তার ওপর বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি কেটে নেওয়ায় আমাদের খেলাধুলা করার মাঠ থাকলো না। আর গাছের ডালপালা কেটে নেওয়ায় আমরা ছায়া থেকেও বঞ্চিত হবো।

প্রধান শিক্ষক স্কুলমাঠের পাশের একটি গাছও কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীরকুরুষাফেরুষা খন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শুধু মাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাননি, একটি মাত্র বটগাছ-সেটিও কাটার চেষ্টা করেছেন। এলাকাবাসীর চাপে গাছটি কাটতে না পারলেও, গাছের ডাল-পালা কেটে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান দাবি করেন, ‘বিদ্যালয়টি যে জমিতে অবস্থিত তা একই দাগে ৪০ শতক রয়েছে। কিন্তু আমার বাবা ওই দাগ থেকে ৩৩ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। বাকি ৭ শতক জমি থেকে আমি মাটি কেটেছি যা বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নয় বরং আমার পৈতৃক সম্পত্তি।’ তবে ওপরের কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বর্তমানে মাটি কাটা বন্ধ রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল করিম জানান, ‘বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষককে মাটি কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তাকে রবিবার অফিসে আসতে বলেছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

/টিটি/টিএন/

লাইভ

টপ