হাসপাতালে নবজাতককে রেখে পালিয়ে গেলেন মা, দত্তকে আগ্রহী অর্ধশত

Send
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৪২, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৭, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯





নবজাতক নীলাচাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ১৪ দিনের এক নবজাতককে রেখে পালিয়ে গেছেন মা। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে খবর পেয়ে রবিবার (৮ ডিসেম্বর) পর্যন্ত শিশুটিকে প্রায় অর্ধশত মানুষ দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আজিজ জানান, বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। তার দেখভাল করছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় কর্মরত বিল্লাল হোসেনের নিঃসন্তান স্ত্রী।

দত্তক নিতে আগ্রহী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ আগে আমার স্ত্রী যমজ সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু দুটি সন্তানই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মারা যায়। এমন পরিস্থিতিতে একজন মা নবজাতক রেখে চলে গেছেন, এই সংবাদ পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে আসি। এরইমধ্যে আমার স্ত্রী শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে শুরু করেছেন। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বলেন, ‌‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম উদ্দিনকে জানায়। তিনি চাঁদপুর সমাজসেবা অধিদফতরকে বিষয়টি অবগত করেন। তারপর আমি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের লোকজন ঘটনার সত্যতা জানতে পারি। শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চেয়েছেন।’

চাঁদপুর সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‌‌শিশুটির অভিভাবক খোঁজা হচ্ছে। তবে কোনও অভিভাবক খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাচ্চাটি অসুস্থ ছিল। তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়েছে। বোর্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শিশুটিকে দত্তক নিতে চেয়েছেন। কিন্তু এভাবে দত্তক দেওয়ার নিয়ম নেই। দত্তক নিতে হয় আদালতের মাধ্যমে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসপাতালের নার্স মুক্তি রানী দাস বলেন, ‘গত ১৪ দিন আগে শিশুটির জন্ম হয়। চার দিন থাকার পর মা নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান। কিন্তু ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে পরে আবারো ভর্তি হন। তারপর শুক্রবার রাতে শিশুটিকে রেখে মা চলে যান।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, ‘ওই নারী চাঁদপুর সদরের শাহতলী গ্রামের নাম, ঠিকানা ব্যবহার করে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সেখানে এই ঠিকানায় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে এই নিয়ে বেকায়দায় পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।’

/এনএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ