অবহেলায় কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধি, ধুয়ে-মুছে শ্রদ্ধা জানালেন সাংবাদিকরা

Send
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:০০, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১৮, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

BT New Tempমহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে পাক বাহিনীর বুলেটে প্রাণ দিয়েছিলেন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটো। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তার রক্তের বিনিময়ে হানাদারমুক্ত হয় সাভার। কিন্তু বিজয়ের ৪৮ বছরেও সাভারমুক্ত দিবসে অকুতোভয় সেই বীর কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলটি পড়ে রয়েছে অনেকটাই অবহেলায়। ১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ডেইরিগেট এলাকায় শহীদ টিটোর সমাধিটির ফলক উন্মোচন করেন। এর পর থেকেই স্বাধীনতার এই বীর শহীদের সমাধিটির প্রতি দৃষ্টি নেই কারও।

প্রতি বছরের মতো ১৪ ডিসেম্বর সাভারমুক্ত দিবসে স্থানীয় সাংবাদিকরা নিজ উদ্যোগে শহীদ টিটোর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে দেখেন জাতির এই বীর সন্তানের সমাধিটির নাজুক অবস্থা। ধুলাবালি আর ময়লা আবর্জনায় শ্রদ্ধা জানানোর পরিবেশ নেই সেখানে। তখন সাংবাদিকরাই শনিবার দুপুরে ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করে সেখানে শ্রদ্ধা জানান। আগামীতে সাভারমুক্ত দিবস পালনে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

১৪ ডিসেম্বর সাভারমুক্ত দিবসে প্রতি বছর শুধু স্থানীয় সাংবাদিকরাই এই সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। সাভারমুক্ত দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসেনি প্রশাসনের কেউই। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি ঢাকায় মিটিংয়ে আছি।’

২ নং সেক্টর কমান্ডার ও সাভার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. আইনুদ্দিন জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা টিটোর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সাভার হানাদারমুক্ত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরতাপের বিষয় হলেও এটা সত্যি, বিজয়ের ৪৮ বছরেও সাভার হানাদার মুক্ত দিবস পালনে উপজেলা প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ নেই। এমনকি শহীদ টিটোর সমাধিতেও জানানো হয় না শ্রদ্ধা।’

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, ‘পারিবারিক কাজে আমি ব্যস্ত থাকার কারণে ওখানে (শহীদ টিটোর সমাধি) যাওয়া সম্ভব নয়।’

কেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার হানাদারমুক্ত দিবস পালন করা হয় না সে ব্যাপারে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

/এমএএ/

লাইভ

টপ