চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেল চলাচল শুরু হচ্ছে জুলাইয়ে

Send
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
প্রকাশিত : ২৩:৪৮, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৮, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

BT New Tempবাংলাদেশের উত্তর সীমান্তের নীলফামারীর চিলাহাটি এবং ভারতের হলদীবাড়ি হয়ে দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি সরাসরি রেলযোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে রেলপথ নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। রেলপথটি চালু হলে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে ট্রেন যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানও মোংলা বন্দর থেকে মালামাল পরিবহন করতে পারবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে এই পথে ট্রেন চালু হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। যা প্যাকেজ মূল্যে প্রকল্পটির কাজ চলছে ৬৮ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।’

তিনি জানান, চিলাহাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার এবং ২ দশমিক ৬৩৬ কিলোমিটার লুপ লাইনসহ মোট ৯ দশমিক ৩৬০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ভারতীয় অংশে ইতোমধ্যে প্রায় ৪২ কোটি রুপি খরচ করে হলদিবাড়ি স্টেশনে দুটি নতুন প্লাটফর্ম, টিকেট কাউন্টার, প্রতিক্ষালয় এবং রেল কর্মচারীদের জন্য অফিস তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অংশের সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার রেলপথে সাতটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ওই ব্রিজ নির্মাণকাজ শেষ হবে। এরপর বসানো হবে ব্রডগেজ লাইন। লাইনগুলো ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করে চিলাহাটিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান শিহাব বলেন, ‘আমরা এ যাবৎ বাংলাদেশ অংশে ৪৫ ভাগ কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।’

ননএই রেলপথের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এই এলাকায় মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলছেন দোকানসহ ছোট ছোট শিল্প কারখানা। চিলাহাটি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়াত হোসেন ও সংস্কৃতিকর্মী মাহাবুবুল আলম মাহাবুব বলেন, ‘একসময় কলকাতা থেকে দার্জিলিংগামী অনেক ট্রেন এই রুটে চলতো। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সরকার ভারতের সঙ্গে এই রুটে রেল যোগাযোগ চালু হওয়া আমাদের জন্য সুখবর। এই রেলপথ শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়বে।’

নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ঢাকা-নীলফামারী চিলাহাটি হয়ে যদি যাত্রীবাহী ট্রেন চলে তাহলে ট্রেনে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়বে। বর্তমানে ঢাকা-কোলকাতা, খুলনা-কোলকাতা রুটে চলা ট্রেনের চেয়েও এই রুটে যাত্রী বেশি থাকবে। এতে সরকারের রেলখাতে রাজস্ব আয়ও বেড়ে যাবে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এই রেলপথের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ভারতীয় অংশে কাজ শুরু হলেও, একটু দেরিতে শুরু হয় বাংলাদেশ অংশের কাজ। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি স্টেশন এলাকায় এই কাজের উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সে সময় উপস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেছিলেন, একসময় দার্জিলিং মেইল শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে রানাঘাট, ভেড়ামারা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, সান্তাহার, হিলি, পার্বতীপুর, নীলফামারী, চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়িতে চলাচল করতো।

কর্মকর্তারা বলছেন,  এই পথে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারত যেমন রেল চলাচলে সুবিধা পাবে, তেমনি ভারতের ভেতর দিয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে রেল যোগাযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। যেভাবে এখন খুলনা-কলকাতা বা কলকাতা-ঢাকা রেল যোগাযোগ রয়েছে, এটিও তেমন হবে। পাশাপাশি নেপাল ও ভুটান এই রেলরুটে মালামাল পরিবহন করতে পারবে। ফলে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও এই পথে আমদানি-রফতানি ও বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ হবে।

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় রেল ও বাংলাদেশের রেলের মধ্যে কী ধরনের ট্রাফিক হবে, সেটা নিয়ে পরে  আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’  আগামী জুলাই থেকে এই রুটে রেল চলাচল শুরু হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ