ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মামলায় পুলিশ পরিদর্শক কারাগারে

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:১১, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৫, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

মো. সালাউদ্দিনব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যৌতুক মামলায় তার স্বামী পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ছাদাতের আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সালাউদ্দিন কুমিল্লার কতোয়ালি থানার পরির্দশক (তদন্ত) ছিলেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডার শরাফ উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে পরিচয়ের পর ২০১৪ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয় সালাউদ্দিনের। মাস চারেক আগে তাহমিনার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সালাউদ্দিন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। এ অবস্থায় প্রতিকার না পেয়ে গত ১ ডিসেম্বর দুপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন তাহমিনা। পরে বিচারক সমন জারি করে সালাউদ্দিনকে ১৫ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উত্তর মাদ্রাসা এলাকার সামসুল আলমের ছেলে সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। বিয়ের পর তাদের একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তার বয়স তিন বছর।
গত তিন-চার মাস আগে তাহমিনার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সালাউদ্দিন। গত ১৫ নভেম্বর সালাউদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সামনে পুলিশের
চাকরিতে পদোন্নতির কথা বলে আবার ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই মুহূর্তে যৌতুকের ২০ লাখ টাকা না দিলে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে তাহমিনাকে ভয় দেখান সালাউদ্দিন। টাকা দিতে না পারায় তাহমিনাকে মারধর করেন তার স্বামী। পরে স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে জানিয়েও কোনও বিচার পাননি তাহমিনা। এজন্য বিচার পাওয়ার আশায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্ত্রী তাহমিনার মামলায় আদালত পুলিশের সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ২ ডিসেম্বর সালাউদ্দিনকে কোতোয়ালি থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্তত করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা সুলতানা খানম বলেন, ‘যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্বামী পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী তাহমিনা। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রবিবার হাজির হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

/এআর/

লাইভ

টপ