ভারতে উদ্ধার হলো যশোরের গৃহবধূর লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা

Send
যশোর ও বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:২১, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৪, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

আসমা ইসলামভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁয় একটি লজ থেকে যশোরের গৃহবধূ আসমা ইসলামের (৩৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তিনি ভারত যান। বনগাঁ সদরের একটি হোটেল কক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে একই রুমে অবস্থানকারী আবুল কাশেম পলাতক আছে। ওই হোটেলে তাদের সঙ্গে এক নারীও ছিলেন। তাকে আটক করেছে বনগাঁ থানা পুলিশ।

আসমা যশোরের আরবপুর পাওয়ার হাউজপাড়া এলাকার শাহানুর ইসলামের স্ত্রী। থাকতেন যশোর সদরের নওদাগাঁ এলাকার জনৈক মঞ্জু নামে এক শিক্ষকের বাড়িতে।  

আসমা ইসলামের মেয়ে মিশুর অভিযোগ, নওদাগাঁ এলাকার ড্রাইভার আবুল কাশেম তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তিনি জানান, গত ১৫ জানুয়ারি তার মা ও খালা মনোয়ারা বেগম চিকিৎসার জন্যে ভারতে যান। তারা ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকার বাটা মোড়ে হোটেল শ্যামা প্রসাদে ছিলেন। ওই হোটেলের একটি কক্ষে তার মা ও নওদাগাঁ এলাকার ড্রাইভার আবুল কাশেম এবং অপর কক্ষে তার খালা মনোয়ারা বেগম ছিলেন।  ১৬ তারিখ সকালে রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে হোটেল কর্মচারী আসমাকে মৃত অবস্থায় পান।  তখন আবুল কাশেম সেখানে ছিলেন না।  পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।  

মিশু আরও জানান, ১৭ জানুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে তার মায়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আবুল কাশেম পলাতক রয়েছে। এদিকে আসমার আত্মীয় পরিচয়দানকারী মনোয়ারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘শুক্রবার আসমার স্বজনরা এসেছিলেন। আমি তাদের বলেছি, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা যেন বিজিবি ও আমাদের ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আবুল কাশেমই তাকে হত্যা করেছে কি না বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই।  তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য প্রমাণ যদি আমাদের কাছে আসে, তবে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

উল্লেখ্য, আসমা ইসলামের বাড়ি আরবপুর পাওয়ার হাউজ এলাকায় হলেও তারা যশোর সদরের নওদাগাঁ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার মেয়ে শিশু পুলিশকে জানিয়েছেন, একই এলাকার আবুল কাশেম তার মাকে উত্ত্যক্ত করতো। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসমার সঙ্গে আবুল কাশেমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা ভারতে যাওয়ার আগেই কাশেম সেই হোটেলে ছিলেন।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ