বিদ্যালয়ে ফিরেছে হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুটি

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৮, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, জানুয়ারি ২০, ২০২০




শিশু শিক্ষার্থী বিরাট বাসপর
কুলাউড়া উপজেলার অগ্রদূত চাইল্ড কেয়ার হোমস-এ ভর্তি হয়েও অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের বাধায় ক্লাসে যেতে পারছিলো না হরিজন সম্প্রদায়ের এক শিশু। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে শিশুটি স্কুলে ফিরেছে।

শিক্ষার্থীর পিতা মনা বাসপর জানান, প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে আবেদন করেন তিনি। আবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে ১৩ জানুয়ারি ছেলে বিরাট বাসপরকে তিনি ভর্তি করান। পরে হরিজন বলে ছেলেকে ক্লাসে যেতে নিষেধ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বাবার আবেদনের পর বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী তার কার্যালয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ডেকে কারণ জানতে চান। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে সুযোগ দিলে অন্য শিশুদের সমস্যা হবে বলে আপত্তি তুলেছেন অভিভাবকরা। হরিজনের ছেলে থাকলে তারা নিজেদের বাচ্চাকে অন্য স্কুলে নিয়ে যাবেন বলেও হুমকি দেন। এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তখন ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলে ফেরাতে নির্দেশ দেন ইউএনও। প্রয়োজনে ওই ছেলের পড়ালেখার খরচ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিখিল বর্ধন বলেন, ‘হরিজন ছেলে হলেও আমরা তাকে ভর্তি করেছি। অভিভাবকদের আপত্তির কারণে তাকে বারণ করা হয়েছিলো। পরে ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে তাকে ক্লাস করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ এখন সে নিয়মিত ক্লাস করছে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষার্থীর পিতা মনা বাসপর বলেন, ‘ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমার ছেলে স্কুলে ফিরেছে। আমরা খুবই খুশি।’

কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী সোমবার (২০ জানুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। এ থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না, সে যে সম্প্রদায়েরই হোক। অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষকে ওই ছাত্রকে ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। পরে জানতে পেরেছি শিশুটি স্কুলে ফিরেছে। খুব শিগগিরই স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হবে।’

/টিটি/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ