জামালপুরে টমেটোর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

Send
বিশ্বজিৎ দেব, জামালপুর
প্রকাশিত : ১০:১৯, জানুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩, জানুয়ারি ২১, ২০২০

জামালপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের গ্রামগুলোয় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে এর দামও ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। টমেটো চাষ করে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ছয় হাজার কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সদর উপজেলায় এক হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। লক্ষীরচর, তুলশীরচর, রানাগাছা, শরিফপুর, নরুন্দি, ইটাইল ইউনিয়নে উদয়ন, উন্নয়ন, দিগন্ত, রূপসী, বিউটিফুল, লাভলী, ব্র্যাকের আবিষ্কার-১৭৩৬, সফল, কোহিনুর মঙ্গলসুপার ও মঙ্গলরাজা টমেটোর চাষ হয়েছে। উৎপাদিত টমেটো দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত।
জামালপুরে সবচেয়ে বড় নান্দিনা বাজার । এ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ টমেটো পাইকারি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়। নান্দিনার ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, গত বছর এ সময় টমেটোর বাজারমূল্য ছিল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর এই সময় নান্দিনা বাজার থেকে প্রতিদিন ট্রাক, লেগুনাসহ প্রায় একশ’ যানবাহনে করে টমেটো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান যেতো। কিন্তু এবার প্রতিদিন নান্দিনা বাজার থেকে তিন থেকে চারশ’ ট্রাক, লেগুনাশহ কয়েকশ’ যানবাহন নান্দিনা বাজার থেকে টমেটোবোঝাই করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে।
হাট ইজারাদার ফজলুল হক বলেন, কৃষকরা এবার এই অঞ্চলে টমেটো আবাদ করছে সবচেয়ে বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবার এই অঞ্চলে বন্যা হয়েছে। বন্যা হওয়ায় মাটিতে প্রচুর পরিমাণে পলি পড়েছে। এর ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে এই অঞ্চলে টমেটোর ফলন বেড়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পাইকার রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও সুলতান আকন্দ বলেন, গত বছর এ সময় নান্দিনা বাজারে টমেটো অনেক কম ছিল। কিন্তু এবার টমেটোর গাড়ির কারণে পশ্চিম বাজার এলাকার সব রাস্তায় তীব্র যানজট লেগেই আছে। এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তারা আরও বলেন, নান্দিনা এলাকার টমেটো দেখতে সুন্দর, খেতেও বেশ স্বাদ। এবার টমেটোর দাম অনেক বেশি। এবার মণপ্রতি টমেটো এক হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনেছি। এক ট্রাক ভর্তিকরে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করবো। বাজার ভালো পেলে মণপ্রতি এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা লাভ হবে।
লক্ষ্মীরচর, বারুয়ামারী, যগৎপুরচর গ্রামের টমেটো চাষি আব্দুস সামাদ, আতাব আলী, রহমতুল্ল্যা সেখ, সুকুর হাসান ও ফটিক মিয়া বলেন, সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে কয়েক বছর ধরে অনেকে টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেক চাষি ঋণ নিয়ে টমেটোর চাষাবাদ করেছেন। এবার টমেটো চাষে প্রতিষেধকমূলক বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করতেও হয়নি খুব একটা । কারণ এবার আবাদে কীটপতঙ্গ খুব একটা আক্রমণ করেনি।
জামালপুর সদর উপজেলার তুলশির চর গ্রামের কৃষক মকছেদ মিয়া জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন। এতে তার বিঘা প্রতি প্রায় ৩২ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। তার এ পর্যন্ত প্রায় বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মতন। তার এখনও প্রায় অর্ধেকেরও বেশি জমিতে টমেটো রয়ে গেছে। যদি কোনও বিপর্যয় না ঘটে তাহলে বাকি টমেটো থেকে আরও ৮০-৯০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন তিনি।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে লক্ষীর চর, তুলসীর চর, রানাগাছা, শরীফপুর, নরুন্দি, ইটাইল ইউনিয়নে এবার প্রচুর টমেটোর চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে একজন চাষি পাঁচ মেট্রিক টন করে টমেটো উৎপাদন করবে এবং খরচ বাদে প্রতি হেক্টরে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা করে লাভ করতে পারবেন। এবার এ পর্যন্ত টমেটো চাষ করে অনেক কৃষক আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে।

/এআর/

লাইভ

টপ