যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীকে হুমকি

Send
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫৩, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০০, জানুয়ারি ২২, ২০২০




কুমিল্লা-বিশ্ববিদ্যালয়কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার নতুন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ওই শিক্ষক বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করেছেন তার দুই সহকর্মী। এ বিষয়ে শিক্ষকের দুই সহকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরারবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকোর্স থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী রেজওয়ান তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধীনে সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর (ইএমএ) কোর্সে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং যৌননিপীড়ন সেল বরাবর যৌন হয়রানি ও প্রমাণ লোপাটের লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই শিক্ষার্থীর নতুন অভিযোগ, যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে ওই শিক্ষক প্রভাবশালী মহল দিয়ে তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন।

ওই শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ করার পর থেকে আমার ওপর নানা মহল থেকে চাপ আসছে। ওই শিক্ষক কুমিল্লা জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি তার ৯৫ ব্যাচের সব বন্ধুকে মাঠে নামিয়েছেন। আমার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিছু লোক এসে হুমকি দিয়ে গেছে। তারা বলেছে অভিযোগ উঠিয়ে না নিলে আমার আপত্তিকর ছবি তারা ছড়িয়ে দেবে।’

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘হুমকির পাশাপাশি সমঝোতার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে। তারা চাইছে, যেকোনও মূল্যে আমি যেন অভিযোগ উঠিয়ে নেই। তবে আমি আমার অবস্থানে অটল রয়েছি।’

হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। একইভাবে তাকে বা তার স্বামী-পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও মিথ্যা। আমি বা আমার পরিচিত কেউ এমনটি করেননি।’

এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষক কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করেন। সেই প্রেস কনফারেন্সে তিনি অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ‘টাকার বিনিময়ে শয্যাসঙ্গী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া আরও অপমান জনক শব্দ ব্যবহা করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন শিক্ষক নৈতিকভাবে সর্বোচ্চ নীচ অবস্থানে না গেলে শিক্ষার্থী সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এসব শব্দ উচ্চারণ করতেন না।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে, শিক্ষার্থীর দেওয়া ওই অভিযোগের নেপথ্যে ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদার। পাশাপাশি তার বিভাগের আরও দুই শিক্ষক আকবর হোসেন এবং হাবিবুর রহমানের নৈতিক চরিত্রের বিষয়েও ওই শিক্ষার্থী তার কাছে অভিযোগ করতে এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।

কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীর অভিযোগএ ঘটনায় ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আকবর হোসেন এবং হাবিবুর রহমান। দুই শিক্ষকই তাদের অভিযোগপত্রে ঘটনা উল্লেখপূর্বক গণমাধ্যমে দেওয়া শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদারের বক্তব্যে নিজেরা হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এবং এর সুবিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে ওই দুই শিক্ষকই অভিযোগপত্রে যা লিখেছেন তাই তাদের বক্তব্য বলে জানান।

দুই সহকর্মীর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, ‘আমি আসলে তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করিনি। বরং তাদের দু’জনের কথা যেগুলো ওই মেয়ে আমাকে বলেছিলো সেগুলোই উপস্থাপন করেছি। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই সহকর্মীদের কাছে স্যরি বলেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়ে উপাচার্যের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে সান্ধ্যকোর্সের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’ সব ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ