যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় নারীসহ গ্রেফতার তিন

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ০০:৩৫, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৯, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

যুবককে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন ব্যক্তি

চট্টগ্রামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কুমার নাথ এ তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার তিনজন হলেন- বাদশা মিয়া (৩১), সুমি আক্তার শারমিন (২৭) ও মো. কবির আহমদ (৩৫)। গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে বাদশা মিয়া ও সুমি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত আইফোন ও হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা সিডিএর টেক এলাকা থেকে মো. রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী সজীব (২৭) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ছিল। ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

রায়হান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা গ্রামের আতাউর রহমান চৌধুরীর ছেলে। তিনি আবুধাবি প্রবাসী ছিলেন। গত ১৪ নভেম্বর দেশে আসার পর ১৯ ডিসেম্বর তিনি চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলী এলাকার এক মেয়েকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। ২৫ জানুয়ারি তার বিবাহত্তোর অনুষ্ঠানের তারিখ ছিল।

শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রায়হান নগরীর বাকলিয়ায় ফুপুর বাসায় অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে যান। সেখান থেকে ফুপাতো ভাইকে নিয়ে যান বহদ্দারহাট এলাকায় চিকিৎসকের চেম্বারে। সেখান থেকে নগরীর গরীবউল্ল্যাহ শাহ মাজার এলাকায় চাচার বাসায় দাওয়াত দিতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর শনিবার সকালে সিডিএর টেক এলাকায় কবরস্থানের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সেলিম-সুমিসহ সাতজন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা সুমির মাধ্যমে ধনী পরিবারের সন্তানদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে। রায়হানকে ফাঁদে ফেলে তারা তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

শ্যামল কুমার নাথ বলেন, গ্রেফতার আসামিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সুমি রায়হানকে তার বাসায় ডাকে। ওই দিন সুমি রায়হানকে কল করে বলে, মইজ্জারটেক এলাকায় সেলিম নামে এক ব্যক্তি রায়হানের সঙ্গে দেখা করে সুমির বাসায় নিয়ে যাবে। তার কথা অনুযায়ী মইজ্যারটেক এলাকায় সেলিমের সঙ্গে দেখা করে। সেখান থেকে হেঁটে বাসায় যাওয়ার পথে সিডিএরটেক এলাকায় পৌঁছালে রায়হানকে কয়েকজন মিলে জাপটে ধরে মারধর করে এবং টেনেহিঁচড়ে একটি কবরস্থানের পাশে অন্ধকারে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা এবং মুখ বেঁধে ফেলা হয়। প্রথমে ২০ লাখ, পরে ১৫ লাখ এবং এরপর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ১০ লাখ টাকায় রাজি হলে রায়হানের মুখের বাঁধন আলগা করে দেওয়া হয়। এসময় রায়হান চিৎকার করে ওঠেন। তখন তার গলায় থাকা মাফলার দু’দিক থেকে সজোরে টান দেয় দুই দুর্বৃত্ত। আর দুজন গিয়ে মাথা নিচু করে ঠেসে ধরে রাখে মাটিতে। মাফলার দিয়ে টান দেওয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে রায়হান মারা যান।’

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ