অটোরিকশা থেকে ধরে নিয়ে বিধবা নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:২৪, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৭, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

গণধর্ষণভোলার দৌলতখান উপজেলায় এক বিধবাকে (৩৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে ওই নারীকে জোর করে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ভোলার উপ-শহর বাংলাবাজার এলাকার হালিমা খাতুন কলেজের পেছনে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাতেই ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।

ভিকটিম দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগরের বাসিন্দা ও বাংলাবাজার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের কর্মী। ঘটনার পর পরই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। রাতেই থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম হাসপাতালে এসে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অটোচালক মো. গিয়াসউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

ভিকটিম জানান, ক্লিনিকে কাজের সূত্রে এক রোগীর খবর নিতে তিনি সন্ধ্যায় মিয়ারহাট এলাকায় যান। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মিয়ারহাট থেকে  ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাংলাবাজারের উদ্দেশে রওনা করেন। অটোরিকশাটি হালিমা খাতুন কলেজের সামনে আসলে চালক কেনাকাটার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে যান। এ সুযোগে তাকে অটোতে একা পেয়ে কলেজের সামনে থাকা সোহাগ ও মনজুরসহ চার যুবক হাত-পা বেঁধে কলেজের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে গেলে চিৎকার করতে করতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

তাকে উদ্ধার করা স্থানীয় দোকানদার মো. সহিদুল সরকার জানান, ‘কলেজের ভেতরে এক নারীর ডাক চিৎকার শুনে আমরা ছুটে এসে দেখি অজ্ঞান অবস্থায় ওই নারী পড়ে আছেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতাল পাঠাই। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষকরা কলেজের পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়।’

ভোলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স দেবি মল্লিক জানান, ‘ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. গোলাম রাব্বী জানান, ‘রোগীকে সুস্থ করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ 

দৌলতখান থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অটোচালক মো. গিয়াসউদ্দিন আটক করা হয়েছে। রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়াও রোগী সুস্থ হলে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চরফ্যাশনে গত ১৫ জানুয়ারি তারিখে স্বামীর খোঁজে এসে এক গার্মেন্টসকর্মী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। একই উপজেলায় গত রবিবার ট্রলারের ভেতর তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ