ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামারে ভাগ্য বদল

Send
এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত : ১২:৩৫, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের প্রবাসফেরত আমিনুর ইসলাম। অল্প পুঁজি নিয়ে তিনি এক বছর আগে হাঁসের খামার শুরু করেন। এখন তার খামার থেকে ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

আমিনুরের বাড়ি উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের গাছপাড়া কামারনওগাঁ গ্রামে। প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামারে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী বিপুল বেগম।

জানা যায়, ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে প্রায় এক বছর আগে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে এক হাজার জিনডিং ও খাকি ক্যাম্পবেল প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা কিনে ভ্রাম্যমাণভাবে পালন শুরু করেন আমিনুর। প্রথম অবস্থায় তার শ্বশুর বাড়িতে বাচ্চাগুলো লালন-পালন করা হয়। এক-দেড় মাস পর হাঁসগুলো কামারনওগাঁর বিলে নেওয়া হয়। ওই বিলে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তৈরি করে রাখা হচ্ছে হাঁসগুলো। সকাল হলেই ছেড়ে দেওয়া হয় বিলের পানিতে। গম, কুঁড়া আর ধান একত্র করে হাঁসের খাবার তৈরি করা হয়। সাড়ে তিন মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে গত ৫-৬ মাস ধরে ডিম দিচ্ছে হাঁসগুলো। এক হাজার হাঁসের মধ্যে এখন রয়েছে সাড়ে আটশ’ হাঁস। প্রতিদিন খামার থেকে থেকে ডিম উৎপাদন হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ করে।

খামারি আমিনুর ইসলাম বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে তেমনটা সুবিধা করতে না পেয়ে দেশে ফিরে আসি। এরপর কোনও উপায় না পেয়ে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার তৈরি করি। প্রথমে শ্বশুর বাড়িতে হাঁসের বাচ্চাগুলো ওঠানো হয়। এরপর আমার বাড়িতে আনা হয়। পরে কামারনওগাঁর বিলে নেওয়া হয়েছে হাঁসগুলো। ভ্রাম্যমাণ খামার হওয়ায় সব সময় হাঁসগুলো থাকে জলাশয়ে। ফলে খাবার খরচও কমে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা করে। প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা করে পাচ্ছি। গত পাঁচ মাসে প্রায় ছয় লাখ টাকার মতো ডিম বিক্রি করতে পেরেছি।’ কয়েকদিনের মধ্যেই হাঁসগুলো সরানো হবে বলেও তিনি জানান।

আমিনুরের স্ত্রী বিপুল বেগম বলেন, ‘আমরা দুজন মিলেই শ্রম দিচ্ছি খামারে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতায় প্রথম ধাপে ১৭ দিন, দ্বিতীয় ধাপে ২১ দিন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। খামারে প্রাথমিক চিকিৎসা এখন আমি নিজেই দিতে পারি।’  

দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমিনুরের হাঁসের খামার একটি ভালো উদ্যোগ। আশা করছি ওই খামার থেকেই আমিনুর ভাগ্য বদল করতে পারবেন। তাকে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ভ্যাকসিনসহ, চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা সরবরাহ করা হচ্ছে।’

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ