অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে সাবেক এমপির আত্মহত্যার হুমকি!

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:৩৮, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০১, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

(ছবিতে ডানে) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন তালুকদাররাজনীতিতে অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন উলিপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তালুকদার। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় তিনি এ হুমকি দেন। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় গ্রুপিং ও কোটারি রাজনীতির রোষানলে পড়ে অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন তালুকদার বলেন, ‘আমি একজন সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমি স্থানীয়ভাবে সংগঠক এবং মুজিবনগর সরকারের পলিটিক্যাল সুপারভাইজার ছিলাম। তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও আমাকেসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিয়ত অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

এসময় ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া, আমার বেঁচে থাকা এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে কিছু আওয়ামী লীগ নেতা স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে বাদ দিয়ে, বিএনপি-জামায়াত ও স্বাধীনতার বিপক্ষের লোকজনকে সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতা আরও বলেন, ‘২৭ বছর উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন করেছি। সেই দুঃসময়ের নেতাদেরকেও আমার মতো কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে। ১৯৯১ সালে রংপুর অঞ্চলের একমাত্র নৌকার প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে একটি সুযোগসন্ধানী চক্র বসন্তের কোকিল হয়ে দলকে গ্রাস করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাচ্ছে।’

সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন তালুকদার আরও অভিযোগ করেন, ‘যিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করে হেরে যান, সেই গোলাম মোস্তফাকে নিয়ে সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের সেই সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আর এই সমস্ত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিরা বিভিন্ন জাতীয় ও দলীয় অনুষ্ঠানে এসে কৌশলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে। ১৯৬৭ সালে আমরা কয়েকজন ছাত্র মিলে উলিপুরে ছোট আকারে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপন করেছিলাম। এখন সে ইতিহাসও বিকৃত করা হচ্ছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার।’

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এমপি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোলায়মান সরদার বাদশা চিঠি না পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, উপরের নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয় না।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মতি শিউলি, সিনিয়র সহ-সভাপতি সোলায়মান সরদার বাদশা প্রমুখ।

বিশেষ দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট যারা, শুধু তাদেরকেই চিঠি দেওয়া হয়। তবে এসব জাতীয় অনুষ্ঠানে সবার আসা উচিত।’

সাবেক এমপিকে অবমূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, ‘সাবেক এমপি নিজেই আওয়ামী লীগ বিরোধী, বার বার উনার ছেলেকে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে এখানে নৌকার ভিত নড়বড়ে করেছেন।’

 

/টিটি/

লাইভ

টপ