সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না রাবি?

Send
তৌসিফ কাইয়ুম, রাবি
প্রকাশিত : ১৯:৪২, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৬, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সমন্বিত পরীক্ষায় কারা অংশগ্রহণ করবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ফের বৈঠক আহ্বান করেছে ইউজিসি। তবে এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল সোমবার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক সভা আহ্বান করেছে প্রশাসন। এরপরই জানা যাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে কিনা?
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসি’র সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে আলোচনা করে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
তবে ইতোমধ্যে বুয়েট, ও চবি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় নিচ্ছে না- এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক আশরাফুল আলম খান দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার একটি সুনাম রয়েছে। এখানে প্রশ্নফাঁসের কোনও ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। কিন্তু সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যে প্রশ্নফাঁস হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সবাই এক বাক্যে না করেছে। তারপরও যেহেতু ইউজিসি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে, সেক্ষেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনার পর বলা যাবে রাবি অংশগ্রহণ করবে কিনা।
একাডেমিক কাউন্সিলের আরেক সদস্য ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হবে আত্মঘাতি। সব মেডিক্যাল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়গুলোতেও একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কখনোই একই কোর্স পড়ানো হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ‘আইকিউ টেস্ট’। কিন্তু সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে সেটি পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।
অনেকটা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সুরে কথা বললেন সিন্ডিকেট সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, একই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রাঙামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হবে। এতে প্রশ্নফাঁস হবে না এমন নিরাপত্তা কে দেবে? মেডিক্যাল কলেজগুলোতে একই বিষয় পড়ানো হয় ফলে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা ঠিক আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সাবজেক্ট পড়ানো হয়।
এদিকে, একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হলেও সিন্ডিকেটের সভা আহ্বান করেনি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক বলছেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানে যে শিক্ষকরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে বিরোধিতা করবে। তাই প্রশাসন একাডেমিক কাউন্সিল ডাকলেও সিন্ডিকেট সভা ডাকেনি বলে ধারণা করছেন তারা।
সিন্ডিকেট সভা না ডাকার বিষয়টি বাংলাট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট কবে নাগাদ হবে সেই বিষয়টি এখনও জানানো হয়নি। আমি সন্ধ্যায়ও খোঁজ নিয়েছি, তখনও সিন্ডিকেট সভায় ডাকা হয়নি। তবে উপাচার্য চাইলে যেকোনও সময় সিন্ডিকেট সভা ডাকতে পারেন।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আগামীকাল একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করবে কিনা।’

/এআর/

লাইভ

টপ