নতুন করে পুরনো ‘লালসালু’

Send
আসাদুজ্জামান রিপন, নরসিংদী
প্রকাশিত : ১২:৪৮, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০০, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

এই কবরকে ঘিরেই মাজার তৈরি করা হয়েছিলনরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে হাছেন আলী ওরফে হাছুইন্না ফকির মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। মাস খানেক আগে তার কবরকে মাজার বানিয়ে ওপরে বিছিয়ে দেওয়া হয় লাল গামছা। পাশেই তৈরি করা হয় টিনশেড আস্তানা। সেখান থেকে বিভিন্ন রোগ সারানোর নামে পানি পড়া দেওয়া হতো। এ যেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস ‘লালসালু’র পুনরাবৃত্তি। আর এতে মজিদ চরিত্রে ছিলেন তাজুল ইসলাম ওরফে উদাম শাহ। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের সাধারণের মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্ম ব্যবসার উদ্দেশ্যেই মাজার তৈরি করেন উদাম শাহ। মাজারের নামে ভণ্ডামির অভিযোগে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গ্রামের যুবসমাজ আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মাজারের পাশেই এখনও ছড়ানো ছিটানো রয়েছে আগরবাতি, পানি পড়া দেওয়ার ভাঙা মাটির কলস, কিছু শুকনো ফুল এবং টিন দিয়ে তৈরি করা উদাম শাহের আস্তানা।

স্থানীয়রা জানান, উদাম শাহ চরআমলাব গ্রামের সুফি ফজলুল হক ফালু শাহের ভক্ত। ১২ মাসই খালি গায়ে থাকার কারণে তিনি উদাম শাহ নামে পরিচিত। আব্দুল্লানগর গ্রামের একটি মাজারের খাদেম থাক অবস্থায় ভক্ত ও শিষ্যদের কাছে অতিরিক্ত টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে মাজার কমিটির দ্বন্দ্ব হয়। পরে ওই মাজার থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি লাখপুর গ্রামের পিঁপড়াটুলী মসজিদের কাছে কিছু মানুষের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করে হাছেন আলীর কবরকে মাজার বানান। তার পাশেই আস্তানা তৈরি করেন। সেখান থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন রোগ সারানোর জন্য পানি পড়া দিতে থাকেন উদাম শাহ। তার ভণ্ডামির বিষয়টি জানাজানি হলে যুবসমাজ আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেয়।

তাজুল ইসলাম ওরফে উদাম শাহহাসান আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমার বাবা জীবদ্দশায় ফকিরি লাইনে জীবনযাপন করেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর প্রায় ছয় বছর আগে কবরটি আমরা মাজারের মতো করে পাকা করি। এ কবরের পাশে আস্তানা গড়েন উদাম শাহ।’

উদাম শাহের চাচা আউয়াল বলেন, ‘হাসান আলী ফকির একজন সাধক ছিলেন। তার কবরের পাশেই তাজুল আস্তানা করেছে সাধন করার উদ্দেশ্যে। ব্যবসা করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।’

বেলাব’র উজিলাব গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন নীলু বলেন, একটি পুরনো কবরকে মাজার বানানো ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই না।

ভেঙে ফেলা আস্তানা

উদাম শাহ বলেন, ‘আমি সাধনের জন্যই এই জায়গাটিতে আস্তানা করেছিলাম। পুরনো কবরটি একজন ধার্মিক লোকের। তাই আমি উক্ত মাজারে বাতি দিয়েছি, পাশের মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়েছি। আমি পাগল মানুষ, কারও ক্ষতি করিনি। কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হাসান ভুঁইয়াসহ এলাকার কিছু ছেলে আমার আস্তানা ভেঙে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে নুরুল হাসান বলেন, ‘উদাম শাহের আস্তানা কে ভেঙেছে আমি জানি না। কেউ যদি আমার কথা বলে থাকেন তাহলে ভুল বলেছেন।’

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দীন ভুইয়া বলেন, রাতারাতি একটি পুরাতন কবরকে মাজার বানানো ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই না। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনও অভিযোগ করেননি।

 

/এসটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ