বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের পর গায়ে আগুন লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা!

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৪২, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০২, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

ধর্ষণবগুড়ার শাজাহানপুরে বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার ১০ দিন পরও আসামিকে শনাক্ত করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ আসামির নাম-পরিচয় জানার চেষ্টাও করেনি। এমনকি ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ইসলামের রিমান্ডের আবেদনও করেনি। মামলা তুলে নিতে বাদী গৃহবধূর বাবা ও তার পরিবারের সদস্যদের ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গৃহবধূ ভাড়া বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ওই গৃহবধূর দাবি, ‘পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতারের চেয়ে আমার স্বামী রফিকুলকে নির্দোষ এবং আমি নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম সেটা প্রমাণের চেষ্টা করছে।’

তিনি জানান, তার স্বামী হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার। তাদের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামে। ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে রফিকুলের নারীদের আসক্তি টের পান তিনি। প্রায় ৯ বছরে সে অন্তত ৪০ জনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মেয়েরা তাকে ফোন করে তার স্বামীকে তালাক দিতেও চাপ দিয়েছে। তার শ্বশুর অর্থের বিনিময়ে অনেকবার এসব বিষয় মীমাংসা করেছেন। শুধু সন্তানের কারণে তিনি সংসার ছেড়ে যেতে পারেননি। সর্বশেষ দিনাজপুরের বিরলের এক মেয়ে তাকে তালাক দিতে চাপ দেয়। তার শ্বশুর ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার ছেলেকে তালাক দিতে অনুরোধ করেন। এসব নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। ২৭ জানুয়ারি রফিকুল তাকে মারধর করে ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। এরপর থেকে রফিকুল তার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।

গৃহবধূ জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১-১২টার মধ্যে রফিকুল ও তার এক বন্ধু প্রাচীর ডিঙিয়ে তাদের ভাড়া বাড়িতে ঢোকে। এসময় মেয়ে তার মায়ের বাড়িতে ছিল। প্রথমে রফিকুল ঘরে ঢুকে তার মুখ চেপে ধরে এবং তার বন্ধু গামছা দিয়ে মুখ ও ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে ফেলে। পরে রফিকুল ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে এবং তার বন্ধু তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই বন্ধু হিজাব পিন দিয়ে পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। রফিকুল ও তার বন্ধু ব্লেড দিয়ে মাথার এক পাশের চুল কেটে দেয়। শেষে তাদের সঙ্গে আনা দাহ্য পদার্থ গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর তিনি দু’জনকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। প্রতিবেশীরা তার হাত ও মুখের বাঁধন খুলে দেয় এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ সুযোগে রফিকুল ইসলাম ও তার বন্ধু পালিয়ে যায়। পরে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৬ ফেব্রুয়ারি ওই গৃহবধূর বাবা শাজাহানপুর থানায় রফিকুল ও তার অজ্ঞাত বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওইদিন পুলিশ শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে রফিকুলকে গ্রেফতার করে। কিন্তু এখনও তাকে রিমান্ডে নেয়নি পুলিশ। এমনকি তার বন্ধুর নাম-পরিচয় বের করার চেষ্টাও করেনি। পুলিশ তাকে (গৃহবধূ) বলছে, ঘটনার সময় রফিকুল ডিউটিতে ছিল। তিনি প্রমাণ হিসেবে হানিফ পরিবহনের ঢাকা কার্যালয়ে ম্যানেজারের কাছে ফোন করে নিশ্চিত হয়েছেন, রফিকুল ঘটনার দিন ডিউটিতে ছিলেন না।

গৃহবধূর ধারণা, রফিকুল পরিবহন শ্রমিক হওয়ায় এবং চিকিৎসক ও পুলিশকে ম্যানেজ করায় তিনি ন্যায়বিচার পাবেন না। তাকে উল্টো আত্মহত্যার চেষ্টাকারী আখ্যায়িত করা হবে।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আম্বার হোসেন জানান, ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তার স্বামী রফিকুল জড়িত কিনা তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।

ঘটনার ১০ দিন পরও রফিকুলের বন্ধুর নাম ও পরিচয় বের করা হয়নি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্ট পেলে এ ব্যাপারে অগ্রসর হওয়া যাবে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, পুলিশ চাইলে সাধারণত ধর্ষণের রিপোর্ট ২-৩ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হয়।

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ