হিলির বাজারে নেই ডিএপি সার, শঙ্কায় চাষিরা

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৯, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

বেরো ধানের আবাদ হচ্ছেআমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দিনাজপুরের হিলিতে বোরো আবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। কিন্তু ডিএপি সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। হিলির অধিকাংশ দোকানেই মিলছে না এই সার। দোকানদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। তবে কৃষি অফিস ও দোকানদাররা বলছেন, দাম কমায় অন্য সার না নিয়ে সবাই ডিএপি সারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। 

কৃষক মিনহাজুল ইসলাম ও সুজন কুমার জানান, প্রতিবছরই ধান আবাদ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। খরচের টাকাই উঠছে না তাদের। যারা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন, তাদের অবস্থা আরও খারাপ। আমন ধানের ক্ষতি খানিকটা পুষিয়ে নিতেই বোরো আবাদ করছেন তারা। কিন্তু ধান রোপণের ভরা মৌসুমে অন্যান্য সার পাওয়া গেলেও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

বেরো ধানের আবাদ হচ্ছেবাড়তি চাহিদার কারণে অনেক দোকানদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে ডিএপি সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারিভাবে প্রতি বস্তা ডিএপি সারের দাম ৮০০ টাকা বেঁধে দিলেও দোকানদাররা ৮৩০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। প্রয়োজন বিধায় বাড়তি দাম দিয়েই কৃষকরা সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

হিলি বাজারের সার ডিলার জোয়ারদার ট্রেডার্সের ম্যানেজার বিফল চন্দ্র মোহন্ত জানান, গত বছর প্রতিবস্তা ডিএপি সারের দাম ছিল ১২০০ টাকা। এবার সরকার ভর্তুকি দিয়ে প্রতিবস্তা সারের দাম ৮০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এছাড়া টিএসপি সার গত বছর ১১০০ টাকা ছিল। এ বছরও দাম একই রয়েছে। অন্যান্য সারে সরকার ভর্তুকি না দেওয়ায় গত বছর যে দাম ছিল, এ বছর তাই রয়েছে। দাম কমায় কৃষকরা ডিএপি সারের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। আপাতত তাদের কাছে কোনও ডিএপি সার নেই। সামনে নতুন বরাদ্দ পেলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

বেরো ধানের আবাদ হচ্ছেদাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দোকানে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেওয়া আছে। এখানে দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বলেন, ডিএপি’র দাম টিএসপি সারের তুলনায় কম থাকায় কৃষকের কাছে এর চাহিদা বেশি। ফেব্রুয়ারিতে ২২৫ মেট্রিক টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আবারও অতিরিক্ত চাহিদা চেয়ে আবেদন করেছেন। মার্চের জন্য ৩০ মেট্রিক টন ডিএপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২৪ টন অতিরিক্ত ডিএপি সারের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। সেটিও বরাদ্দ এসেছে। আশা করি কৃষকদের আর সমস্যা হবে না। কোনও দোকানদারের বিরুদ্ধে সারের দাম বাড়িয়ে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ