পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

Send
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:২৫, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৯, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০



জাটকা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস অধিদফতর। পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে ইলিশ বিচরণ ক্ষেত্রে ৬টি অভয়াশ্রমে ৪৩২ কিলোমিটার নৌ-সীমানায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ইলিশসহ যে কোনও মাছ ধরা, বেচা-কেনা, মজুত ও সরবরাহ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ডসহ অর্থ জরিমানার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের (নদী কেন্দ্র) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইলিশের পোনা জাটকাগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতেই মূলত প্রতিবছর এ দু’ মাস মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়ে থাকে।

তিনি জানান, মার্চ-এপ্রিলে দেশের ৬টি অভয়াশ্রমে মোট ৪৩২ কিলোমিটার নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ ছয়টি অভয়াশ্রম হচ্ছে: মেঘনার চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার, ভোলার শাহবাজপুর চ্যানেলের ১২০ কিলোমিটার, ভোলা-পটুয়াখালীর তেতুলিয়া নদী ৮০ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার এবং বরিশালের হিজালা-মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনার শাখা নদীসহ ৮২ কিলোমিটার।


চাঁদপুর জেলে নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি শাহ মল্লিক বলেন, নৌকার মালিকদের বলে দিয়েছি, তারা যেন নৌকাগুলো নদীপাড়ে বন্ধ করে রাখে। বড় নৌকাগুলো ইতিমধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নিয়েছে।  তিনি বলেন, নিষিদ্ধ এ সময়ে কিছু মৌসুমী জেলে মাছ শিকার করে। যে কারণে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি সফল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই কমিটিতে রয়েছেন।

তিনি জানান, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ। জেলায় ৫১ হাজার ১৯০ জন তালিকাভুক্ত জেলে আছেন।  তাদের জাটকাসহ সব ধরনের মাছ আহরণ থেকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক সভা, মাইকিং, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়া এ সময় তারা যেহেতু বেকার থাকবে তাই তালিকাভুক্ত জেলেদের আগামী চার মাস ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা দেবে সরকার। ইতোমধ্যেই ডিসি অফিস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলেরা চাল পাবে।
তিনি বলেন, আইন অমান্য করে কোনও জেলে জাটকা ধরলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এমআর/

লাইভ

টপ