সিলেটে ১১ হাজার বিদেশফেরতের অধিকাংশই কোয়ারেন্টিন মানছেন না

Send
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪৫, মার্চ ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩০, মার্চ ২৩, ২০২০

BT New Tempগত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১১ হাজার প্রবাসী সিলেটে এসেছেন। তাদের অধিকাংশই কোয়ারেন্টিন মানছেন না। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই ১১ হাজার প্রবাসীর প্রয়োজনীয় তথ্য ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি। তাদের তথ্যগুলো আলাদা করার পরপরই তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য তদারকিতে নামবে জেলা প্রশাসন। যদি কোনও প্রবাসী ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে চলাফেরা করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধিকাংশ প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনে সিলেট মহানগরে ৬০১ জন ব্যক্তি থাকার কথা থাকলেও তদারকি করার সময় অধিকাংশকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ তারা এখনও সচেতন হচ্ছেন না। তবুও আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৭ জন। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালে রয়েছেন একজন।’

এ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যারা কোয়ারেন্টিন মানছেন না তাদের অনেকের বাড়িতে গিয়ে বোঝানোর পর সচেতন হয়েছেন। উপজেলা, ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের টিম যৌথভাবে কাজ করছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।’

তিনি জানান, ১০ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো ব্যক্তির সংখ্যা ৮শ’ জন। এর মধ্যে হোম ছাড়পত্র নিয়েছেন ২৩ জন। হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীর সংখ্যা ৫। কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১১।  সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করা যাত্রীর সংখ্যা ৩৪ জন, গোয়াইনঘাট তামাবিল স্থলবন্দরে আসা যাত্রীর সংখ্যা ৭ জন এবং বিয়ানীবাজার সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে কোনও যাত্রী আসেননি।

খাবারের রেস্টুরেন্ট বন্ধ না করে খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রেস্টুরেন্ট বন্ধ করার কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’ রেস্টুরেন্ট খোলা রেখে সেখানে খাবার পরিবেশন না করে খাবারগুলো প্যাকেট করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিলেটের কোচিংগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সিলেটে কোনও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এসেছে।’

এ সময় পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমাদের সচেতন হতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারে এই ভাইরাস জনিত রোগ থেকে মুক্তি দিতে। প্রবাসী কেউ বিয়ে করলে অবশ্যই তাকে ১৪ দিন আগে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। বিয়েতে দুই পক্ষের ৪ জন সাক্ষী নিয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আর যারা প্রবাস থেকে এসেই গোপনে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের সতর্ক করছি। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যদি কেউ ধরা পড়েন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  

/এমএএ/

লাইভ

টপ