মধ্যরাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজান

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:১৭, মার্চ ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৭, মার্চ ২৭, ২০২০

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মধ্যরাতে দেশের বিভিন্ন জেলার মসজিদে আজান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই আজান দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের গুজবের খবর। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান দুর্যোগকালীন অবস্থায় এই ধরনের আজান দেওয়ার বিধান থাকলেও হঠাৎ আজান দেওয়া আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানায়, জেলার বিভিন্ন মসজিদে রাত ১০ টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আজান দিয়েছেন স্থানীয়রা। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আজানের পর নফল নামাজ পড়েন তারা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একজন আরেকজনকে দেখে এই কাজ করেন। যারা আজান দিয়েছেন বেশিরভাগই আরেক মসজিদের আজান শুনে অথবা নিজেদের মসজিদের মুসল্লিদের চাপে পড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহাজাহান ভূইয়া বলেন, ‘শুনেছি আবুধাবিতে একসঙ্গে বিভিন্ন মসজিদে আজান দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তা শুনে আজান দিয়েছি। আমরা একা নই এলাকার প্রায় সব মসজিদেই আজান হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, ‘আজান দিলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এই বিশ্বাস থেকে মানুষজন আজান দিয়েছেন। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই। এটা গুজব।’

লক্ষ্মীপুর টুমচর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ আল মাদানী বলেন, ‘মানুষ গুজবকে বিশ্বাস করে আজান দিয়েছে। এটা ইসলামের কোনও দলিলে নেই যে আজান দিলে মহামারি চলে যাবে। মানুষ নফল ও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে পারে। এভাবে রাতের বেলায় একসঙ্গে আজান দেওয়াটা গুজবের সৃষ্টি।’

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানায়, জেলার মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় আজান দেওয়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে। রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত ওই এলাকার মসজিদগুলোতে আজান দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনো-সমলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি অবগত নয় বলে জানান। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আল ফারুক জানান তারা এই সম্পর্কে কিছু জানেন না।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, ‘বিভিন্ন মসজিদে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আজান দেওয়া হয়। হঠাৎ এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকেই ফোনে করে বিষয়টি জানতে চায়।’

শরণখোলার রায়েন্দা এলাকার শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শরণখোলার বিভিন্ন মসজিদে রাতে আজান দেওয়া হয়েছে। আজান দেওয়া ভালো, তবে এভাবে হঠাৎ আজান দেওয়ায় মানুষের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হয়।’

মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী জামে মসজিদের ইমান সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘তার বোন চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। রাতে তাকে ফোন করে বলেন চট্টগ্রামের এক হুজুর স্বপ্নে দেখেছে মসজিদে আজান দিলে করোনা ভালো হবে। আর পাশের অনেক মসজিদ থেকেও আজানের শব্দ পান, তাই তিনিও মসজিদে আজান দিয়েছেন।’

পুরাতন কোর্ট মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন খান বলেন, ‘রাতে যারা আজান দিয়েছে তারা ইসলাম সম্মতভাবে আজান দেয়নি। ইসলাম এমন আজান সমর্থন করে না।’

নরসিংদী প্রতিনিধি জানায়, রাত সাড়ে ১০টায় হঠাৎ করে বেলাব, আমলাব, বাজনাব, নারায়ণপুর, চরউজিলাব, পাটুলী ইউনিয়নের শতাধিক মসজিদ আজান দেওয়া হয়। বেলাব উপজেলার প্রায় সবগুলো মসজিদে আজান দেওয়া হয়। এই সময় সবাইকে বাড়ি বাড়ি আজান দিয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে বলা হয়। আতঙ্ক আর ভয়ে মানুষ আজান ও নামাজের প্রস্তুতি শেষ করার পর, বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় করোনাবিরোধী মিছিল।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)ফখরুউদ্দীন ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজান দেওয়ার বিষয়টি ধর্মীয়। তবে মিছিলের নামে কোনও গণজমায়েত নিষেধ করা হয়েছে।’

আজান প্রসঙ্গে ধুকুন্দি জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা জুনাইদ হোসেন ফারুকী বলেন, ‘দেশে যখন মহামারি, আযাব, গজব আসে তখন আজান দিলে আল্লাহ বান্দাদের রক্ষা করেন। কিন্তু মিছিল কিভাবে কারা করেছে সেটা আমি জানি না।’

প্রসঙ্গত, গতরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী ছাত্রসেনা জানায় সারাদেশে একযোগে রাত ১০টায় আজান তাদের আহ্বানে হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ‘রাত দশটায় একযোগে আজান হয়েছে ছাত্রসেনার আহ্বানে’

/এনএস/

লাইভ

টপ