বগুড়ায় সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:১৮, মার্চ ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৯, মার্চ ২৮, ২০২০

বগুড়ার শিবগঞ্জে সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে এক ব্যবসায়ীর (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের দাড়িদহ গ্রামে তার মৃত্যু হয়। এরপরই আশেপাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই ব্যক্তির স্ত্রী জানান, রাতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ও প্রতিবেশীদের ফোন করেও সাহায্য পাননি। ফলে বিনা চিকিৎসায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওই ব্যক্তি সর্দি, জ্বর, কাশি, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন। সর্দি থাকায় জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তি করোনাভাইরাসে মারা যাননি। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া পিপিই পরিহিতদের মাধ্যমে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।'

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, 'শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে লোকজন এসে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পিপিই পরিহিতরা গ্রামের কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া ঢাকা থেকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আশেপাশের অন্তত ১৫ বাড়ি লকডাউন থাকবে।'

ওই ব্যক্তির স্ত্রী জানান, তার স্বামী গাজীপুরে ব্যবসা করেন। গত ২৪ মার্চ সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আসেন। পরদিন থেকে সর্দি, জ্বর ও কাশি শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ এনে তাকে খাওয়ানো হয়। এরপর ২৭ মার্চ (শুক্রবার) রাতে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। এ সময় তিনি প্রতিবেশিদের ডাকলে করোনাভাইরাস আক্রান্ত
সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেনি। টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করা হলেও সারা পাননি। সেখান থেকে তাকে না বলা হয়। এ অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

প্রসঙ্গত, ওই ব্যক্তি গাজীপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায় করতেন। তার স্ত্রী ও তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে বগুড়ায় বাড়িতে থাকতো। তিনি ১০ দিনের সরকারি ছুটির কারণে বাড়িতে এসেছিলেন।

/এনএস/

লাইভ

টপ