হাতে জীবাণুনাশক দিয়েই ঢুকতে হয় আনন্দবাগ গ্রামে

Send
নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত : ১৪:৩০, মার্চ ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৭, মার্চ ২৯, ২০২০

গ্রামবাসী লকডাউন করে রেখে গ্রামঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আনন্দবাগ গ্রামে যাচ্ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। গ্রামে ঢোকার মুখে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন কয়েকজন। এরপর তারা এমপির হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করে হ্যান্ড গ্লাভস পরিয়ে দেন। শুধু এমপি সাহেবই নয়, আনন্দবাগ গ্রামে কেউ প্রবেশ করতে গেলে সবার হাতেই জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। ২৮ মার্চ থেকে আনন্দবাগ গ্রাম ‘লকডাউন’ করে রেখেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। 

আনন্দবাগ গ্রামবাসী নিজেরাই গ্রামের তিনটি প্রবেশপথে পাহারা দিচ্ছেন। প্রবেশদ্বারে বালতিতে পটাশ মিশ্রিত পানি, স্যাভলন মিশ্রিত পানি, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি রাখা রয়েছে। আর সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে করোনা মহামারি রোধে সাময়িকভাবে বাইরের লোক প্রবেশ নিষেধ। গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে গ্রামের বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তেমনিভাবে কেউ ওই গ্রামে প্রবেশও করতে পারছেন না। জরুরি প্রয়োজনে কেউ গ্রামে প্রবেশ করলে সাবান দিয়ে তাদের হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে এরপর তাদের শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়।

জীবাণুনাশক দিয়েই গ্রামে ঢুকতে হয়আনন্দবাগ গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ জানান, গ্রামটি শনিবার থেকে লকডাউন করা। গ্রামের তিনটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়া কাউকে গ্রাম থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তেমনিভাবে কাউকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া গ্রামবাসী দিনমজুর ও অসহায় ব্যক্তিদের খাবার সামগ্রী দিচ্ছেন। রবিবার দুপুরে ২০ জন দিনমজুর, গরিব, দুস্থকে চাল, ডাল, আলু, মরিচ,  পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন তারা। পর্যায়ক্রমে গ্রামের অন্য দুস্থরাও সহায়তা পাবেন।

গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফা মোর্শেদ তোতা জানান, গ্রামটিতে ১৪০টি পরিবারে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। তারা যাতে করোনায় আক্রান্ত না হন সেজন্য গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। শুক্রবার গ্রামবাসী একত্রে বসে মিটিং করেন। শনিবার (২৮ মার্চ ) সকাল থেকে তারা গ্রামটি লকডাউন করে দেন। এরপর তারা পালাক্রমে নজরদারিতে আছেন। গ্রাম লকডাউন করতে যা যা করণীয় তারা সবই করছেন। করোনার প্রকোপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গ্রামবাসী এ কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।  

জীবাণুনাশক দিয়েই গ্রামে ঢুকতে হয়আনন্দবাগ গ্রামের মুরব্বি তৌফিকুল ইসলাম টুকু ও শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘নিজেদের সুরক্ষিত করতে আমরা গ্রামটি লকডাউন করে রেখেছি।’

এমপি বলেন, আনন্দবাগ গ্রামের সবাই মিলে নিজেদের সুরক্ষার জন্য গ্রামটি লকডাউন করেছেন। তারা করোনা মোকাবিলায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। আমি মনে করি এভাবে যদি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ উদ্যোগ নেয় তাহলে প্রশাসনের যে উপস্থিতি থাকার কথা সেটিরও প্রয়োজন হবে না।

জীবাণুনাশক দিয়েই গ্রামে ঢুকতে হয়উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, করোনা প্রতিরোধের একমাত্র ওষুধ হচ্ছে সচেতনতা। আনন্দবাগ গ্রামবাসীকে সাধুবাদ জানাই। তাদের কার্যক্রম প্রশাসনকেও সহযোগিতার করছে। তবে গ্রামের রাস্তাঘাট বন্ধ করা যাবে না। সচেতনতার মাধ্যমে সবাইকে  উদ্যোগী হয়ে কাজ করতে হবে।

/এসটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ