জয়পুরহাটে নিম্নআয়ের মানুষদের সরকারি ত্রাণ দিলেন জেলা প্রশাসক

Send
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৫০, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৯, মার্চ ৩১, ২০২০

 

 

জয়পুরহাটে নিম্ন আয়ের মানুষদের হাতে সরকারি ত্রাণ তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কষ্টে দিন কাটানো জয়পুরহাট জেলার দিনমজুর ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন। সোমবার (৩০ মার্চ) জয়পুরহাট সদর উপজেলার গ্যাংরাইল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীর ৪০ পরিবারের কাছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবণ, মরিচ ও সাবান বিতরণ করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে জেলার অফিস আদালত ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ অবস্থায় কষ্টে জীবন যাপন করছেন জেলা খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষগুলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় জেলার পাঁচ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভায় অতি দরিদ্র এসব পরিবারকে শুকনো খাদ্যসামগ্রী সহযোগিতার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের দরিদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪০ পরিবারে নিজ হাতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায়, ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম সৈকতসহ অন্যরা।

জেলা প্রশাসক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কষ্টে দিনযাপন করা দরিদ্র মানুষদের জন্য সরকারি সহযোগিতা জেলার সব উপজেলা,পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছানো হবে। করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে তিনি সরকারি নির্দেশনা মেনে সতর্ক থাকার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে দেশের এই ক্রান্তিকালে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 অন্যদিকে জেলার কর্মহীন দরিদ্র মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে জয়পুরহাট ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা। রবিবার দিবাগত রাত ১২টায় তারা পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লার নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে চাল, ডাল, আলু ও মুড়ি বিতরণ করেন।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রিফাত আমিন রিয়ন, সহ-সভাপতি রেজুয়ান আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তাসরিন সুলতানা, দফতর সম্পাদক সামিয়া আখতার মিমি প্রমুখ উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রীগুলো বিতরণ করেন। এ সময় তাদের সহযোগিতা করেন গণমাধ্যমকর্মী শামীম কাদির ও সোহেল রানা।

এদিকে জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত এবং মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৫২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বর্তমানে সেফ হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৮০ জন। আর করোনা ভাইরাস উপসর্গ সন্দেহে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন ৫জন রোগী। জ্বর,সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ থাকায় তাদের আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

/টিএন/

লাইভ

টপ