প্রশাসন ব্যস্ত করোনা সামলাতে, জাটকা নিধনে জেলেরা নদীতে

Send
ইব্রাহীম রনি, চাঁদপুর
প্রকাশিত : ১৩:৪৪, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৬, এপ্রিল ০৩, ২০২০

চাঁদপুরের নদীতে জেলেরা

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে এবার তা মানছেন না জেলেরা। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনপদে অধিক সময় দিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তাই নদীতে টাস্কফোর্সের নজরদারি কম। এই সুযোগে জাটকা নিধন হচ্ছে জেলার হাইমচর, চাঁদপুর সদর এবং মতলব উত্তরের কয়েকটি এলাকায়। এমনকি করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই দলবদ্ধ হয়ে জাল নিয়ে নদীতে নামছেন জেলেরা। এতে জেলেপাড়াগুলোতেও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট না পাওয়ায় অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে, দলবদ্ধ হয়ে নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে নামছেন জেলেরা। একই সঙ্গে নদীর পাড়ের আড়তগুলোতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি আড্ডাতেও মেতে উঠেছে তারা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলে অহিদ বেপারী ও ইদ্রিস বেপারী বলেন, 'আমরা নদীতে না নামলেও অনেক জেলেই সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাছ ধরছে।'

তারা জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এলাকায় মাইকিং হয়েছে। কিন্তু অভাব-অনটনে থাকা জেলেদের জন্য কেউ কোনও সাহায্য করেনি।

জেলে আব্দুল কাদের ও রহমান বলেন, 'পেটের দায়ে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরছে। প্রতিটি নৌকায় ৫-৭ জন করে জেলে দলবদ্ধ হয়ে নদীতে যাচ্ছে।'

হাইমচর উপজেলার তেলির মোড় এলাকার জেলে মফিজ মাদবর, নেছার খাঁ, হুমায়ুন হাওলাদার জানান- প্রতিদিন সন্ধ্যায় উত্তর দিক থেকে দলবেঁধে কয়েকশ' নৌকায় কয়েক হাজার জেলে নদীতে যায়। তারা জাটকা ধরে বিক্রির জন্য বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ শুধু নদীর পাড়ে অভিযান চালায়।

হাইমচরের কোস্টগার্ড কমান্ডার এমদাদ হোসেন জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ লাখ কেজি জাটকা নিধন করে নিয়ে যাচ্ছে জেলেরা। আমরা নিয়মিত অভিযান করি, ধাওয়া দেই, গ্রেফতারও করি, আমাদের বোট একটা, ওরা কয়েক হাজার।

হাইমচরের নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল জলিল বলেন, 'আমরা নিয়মিত অভিযান করছি, সমন্বিত অভিযান করে এদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চরভৈরবীতে মাছ কেনা-বেচা বন্ধ করতে অভিযান চলছে।'

হাইমচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রশাসনের সবাই ব্যস্ত। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলেও নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ কয়েকটি টিম নিয়ে নদীতে নামতে পারলে জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, 'ইলিশ অভয়াশ্রম কর্মসূচির আওতায় জাটকা সংরক্ষণকল্পে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ রোধের কাজে ব্যস্ত থাকায় ম্যাজিস্ট্রেট পাচ্ছি না। নানা কারণেই নদীতে গত কয়েক দিন অভিযান পরিচালনা করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের এসপি জমশের আলী বলেন, 'এখানে অর্ধলক্ষাধিক জেলে রয়েছেন। আর এখন যে পরিস্থিতি চলছে, আমরা তো কঠোরও হতে পারছি না। তবে আমাদের কাজ চলমান আছে। এছাড়া দুয়েক দিনের মধ্যে আমাদের কিছু জনবল ও নৌযান আসবে, তখন আমরা আরও ভালো অভিযান পরিচালনা করতে পারবো।'

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, 'করোনা সংক্রমণ রোধসহ বিভিন্ন কাজে ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্যস্ত থাকায় নদীতে যেতে পারছেন না, এটি সত্য। কিন্তু এছাড়াও নদী বিষয়গুলো দেখার জন্য নৌপুলিশ আছে। জাটকা রক্ষায় নৌবাহিনীও কাজ করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'জাটকা রক্ষায় আমাদের আন্তরিকতার কমতি নেই। আর জেলেদেরও সচেতন হতে হবে। তারা যদি দলবদ্ধভাবে নৌকা নিয়ে নদীতে নামে, সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।'

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ