করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসায় একজন আইসোলেশনে, চিকিৎসকসহ ১০ জন কোয়ারেন্টিনে

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:১০, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৭, এপ্রিল ০৩, ২০২০


লকডাউন থাকা বন্দরের রসুলবাগ এলাকানারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় রসুলবাগ এলাকায় এক নারীর মৃত্যুর তিনদিন পর নমুনা পরীক্ষা করে জানা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। এরপর ওই নারীর সংস্পর্শে আসা সদর হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়কে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর চিকিৎসা করা একজন ডাক্তারসহ আরও ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর বাড়িসহ ১০০টি পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারিতে রেখেছে ওই এলাকা। যাতে সেখান থেকে লোকজন কোথাও যেতে না পারে।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, করোনায় মৃত্যু হওয়া নারীর পরিবারসহ আশপাশের ১০০ পরিবারকে লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিবারগুলোর সব সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে। তবে ওই নারী কীভাবে এবং কার মাধ্যমে করোনায় আক্রন্ত হয়েছেন সেটি এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে।
এ ঘটনায় পুরো নারায়ণগঞ্জ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মৃতের পরিবারের ৭ সদস্যসহ তাকে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তিনজনসহ মোট ১০ জনকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার, প্রাইভেট ল্যাবের টেকনিশিয়ান, এক্সরে টেকনিশিয়ান, আয়া ও চেম্বার অ্যাসিস্ট্যান্ট রয়েছেন। তাদের কারও শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লকডাউন থাকা বন্দরের রসুলবাগ এলাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, লকডাউন করা এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। লকডাউনে রাখা পরিবরাগুলোর খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী জেলা প্রশাসন থেকে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি তিনি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান।
এদিকে শুক্রবার (৩ এপিল) সকালে লকডাউন এলাকাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলমসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এলাকা জীবাণুমুক্ত করতে সকাল থেকেই জীবাণুনাশক স্প্রে করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, রসুলবাগে ওই নারীর জানাজা,  লাশ দাফনের সময় তার যেসব আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী ওই বাড়িতে এসেছিলেন তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি সেটি নিয়ে কাজ করছি। আক্রান্তের সংখ্যা যাতে না বাড়ে সেই বিষয়টি বিবেচনা নিয়েই প্রশাসন কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, রসুলপুরের যে অংশটি লকডাউন রাখা হয়েছে তাদের খাবার-দাবারসহ যাবতীয় বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই বাড়ির একজন করে সদস্য যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারেন সেজন্য ভ্যানে করে তরিতরকারিসহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লকডাউন থাকা বন্দরের রসুলবাগ এলাকা
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, রসুলপুরের যে একাংশ লকডাউন করা হয়েছে তারা যাতে ঘর থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও যেতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চারদিকে ঘিরে রেখেছে। জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ ওই এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রেখেছে। জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন যেখানে আমাদের সহায়তা চাচ্ছে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি তাদের সহায়তা করতে।
প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ বন্দর উপজেলার রসুলবাগ এলাকায় হৃদরোগ ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়া ওই নারীকে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানে পরীক্ষা নীরিক্ষার পর চিকিৎসকের নিউমোনিয়া সন্দেহ হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই নারীকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে সেখানকার করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০ মার্চ ওই নারীকে কুর্মিটোলা হাসাপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে আইইডিসিআরকে খবর দিলে তারা এসে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। ২ এপ্রিল রিপোর্ট আসে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ