সাজেকে হামের প্রাদুর্ভাব, ৮ শিশুর মৃত্যু

Send
জিয়াউল হক, রাঙামাটি
প্রকাশিত : ১৮:১৫, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৩, এপ্রিল ০৩, ২০২০

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে হাম রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জেলার সবচেয়ে বড় ও দুর্গম এই ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামে হামে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। যার বেশিরভাগই শিশু। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাজেকের তিন গ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার (১ এপ্রিল) এক শিশুর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাজেক ইউনিয়নের তুইচুই মৌজার দুর্গম অরুণপাড়ার শিশুরা প্রথম হাম রোগে আক্রান্ত হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি অরুণপাড়ায় সাগরিকা ত্রিপুরা (১৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে সাজেকের অরুণপাড়াসহ লংতিয়ান পাড়া, কমলাপুর পাড়া, হাইচ্চাপাড়া ও তারুমপাড়ায় পাড়ায় আরও ১৩৬ শিশু আক্রান্ত হয়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে আট শিশুকে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা (নয়ন) জানিয়েছেন, সাজেকের প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের উদোলছড়ি, নিউঢাংনাং, কমলাপুর, শিবপাড়া, সাতনাম্বার পাড়া, বড়ইতলী, ডেবাছড়ি, কজইছড়ি, ভূয়াছড়ি, লাম্বাবাক ও উজানছড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় আড়াই শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এসব গ্রামগুলোতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আহমেদ জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে প্রায় ১৬০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথম যে শিশুর মৃত্যু হয়, তার নমুনাতে হাম রোগ শনাক্ত হয়। ১৬০ জন শিশু ছাড়াও অনেক শিশু নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রয়েছে। তাদের হাম বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে সাজেকে আমাদের দুটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবিব জিতু জানিয়েছেন, সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১৭৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল টিমও কাজ করছে।

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানিয়েছেন, সাজেকের শিয়ালদহ এলাকায় আমাদের আরেকটি মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে। যখন মেডিক্যাল টিম হাম টিকার কাজ করে তখন ওই এলাকার লোকজন টিকা দিতে আসেন না। আবার কোনও শিশু অসুস্থ হলে চিকিৎসের পরামর্শ ছাড়াই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করাতে তাদের আগ্রহ বেশি।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে শহুরে এলাকার মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছায় না। বিশেষ করে এসব প্রত্যন্ত গ্রামে যাতায়াত অসুবিধার কারণেও স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা পৌঁছাতে পারেন না। এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে টিকাভীতি ও নানা রকম কুসংস্কার রয়েছে। তাই তারা শিশুদের টিকা দেন না। এসব কারণেই ওই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

/এনএস/

লাইভ

টপ