জ্বর-কাশিতে ৪ জনের মৃত্যু, একজনের পরীক্ষা হলেও করোনা আক্রান্ত নন

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৪৮, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৮, এপ্রিল ০৩, ২০২০

খুলনাখুলনায় গত ১৯ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আট দিনে জ্বর, কাশি ও ব্যথায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুর পর স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। ২৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত খুলনায় কেউ জ্বর-কাশি-হাঁচি—এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে মারা যাননি।   

উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ দুপুরে জ্বরের চিকিৎসা নিতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আসেন মো. বাবলু (৪২)। তিনি এখানে আসার পর চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মারা যান। 

বাবলুর বড় বোন জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, ‌'পাঁচদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন বাবলু। চিকিৎসকদের অবহেলায় আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।' বাবলুর বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়বাংলা সেতু এলাকায়।

খুমেক হাসপাতালের ওই সময়ের পরিচালক ডা. এটি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, 'ওই রোগী জ্বর-সর্দি নিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মেডিসিন কনস্যালট্যান্টকে দেখানোর জন্য হাসপাতালের বহির্বিভাগে রেফার করেন। রোগী সেখানে যাওয়ার পথে মারা যায়।'

এদিকে, ২০ মার্চ রাতে নড়াইল থেকে জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথা নিয়ে খুমেক হাসপাতালে আসা রবিউল ইসলাম নামে ভারতীয় এক প্রবাসীকে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।   

খুমেক হাসপাতালের ডা. ওমর ফারুক বলেন, 'রবিউলকে এখানে মৃত অবস্থায় আনা হয়। সে জ্বর, গলা ব্যথা, কাশিসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত ছিল।'

খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামের এক স্কুল শিক্ষক ভারত থেকে ফেরার পর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন পালন করেন। কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয় গত ১৮ মার্চ। এর একদিন পর ২০ মার্চ ভোরে তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।

মৃত স্কুল শিক্ষক বিষ্ণু পদ বিশ্বাস (৫০) শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

তার মৃত্যু নিয়ে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেন, 'ওই শিক্ষক ভারত থেকে ফেরার পর ১৪ দিন নিজ বাড়িতেই ছিলেন। সেখান থেকে আসার পর ২০ মার্চ ভোরে তিনি হঠাৎ হাইপার টেনশনের কারণে মারা যান। তিনি ডায়বেটিসেও আক্রান্ত ছিলেন। গত ৪ মার্চ ভারত থেকে রূপসার নিজ বাড়িতে আসেন তিনি। শিক্ষকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন।'

ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে ভর্তি থাকা এক ব্যক্তি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৬ মার্চ মারা যান। তার নাম মোস্তাহিদুর রহমান (৪৫)। তিনি খুলনা মহানগরীর হেলাতলা এলাকার মৃত সাঈদুর রহমানের ছেলে। মৃত ব্যক্তি থাইরয়েড সার্জারির জন্য ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একজন। এরপর ওই হাসপাতাল থেকে সব রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং নিজ নিজ বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এই রোগী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে ২৫ মার্চ দিনগত রাত আড়াইটার দিকে ভর্তির সময় এ সব তথ্য গোপন করেন। থাইরয়েড সার্জারিতে ইনফেকশন হওয়ার কারণে এখানে আসেন তিনি। তাই তাকে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ এ ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর এ সব তথ্য প্রকাশ পায়। তারপর ওই রোগীকে ফাঁকা ওয়ার্ডের এক কোনে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ২৬ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। তার নমুনা স্যাম্পল ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাতে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট ইনচার্জ ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, মৃত ব্যক্তি তথ্য গোপন না করলে তাকে করোনা ইউনিটেই নেওয়া হতো। তথ্য গোপন করার কারণে তাকে সার্জারিতে নেওয়া হয়।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ