পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম থাকার পরও চিকিৎসাসেবা দিতে অনীহা!

Send
মাসুদ আলম, কুমিল্লা
প্রকাশিত : ২৩:০০, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৩, এপ্রিল ০৫, ২০২০

কুমিল্লাকরোনা আতঙ্কে কুমিল্লার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসকদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। যার ফলে প্রতিদিনই বহির্বিভাগে কমছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চক্ষু, দন্ত, শিশু, চর্ম ও যৌনসহ নানা সমস্যা নিয়ে আসা সাধারণ রোগীর পরিমাণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য গেলে আগের মত বহির্বিভাগে ডাক্তারদের পাওয়া যায় না। করোনায় সাধারণ মানুষ থেকেও চিকিৎসকরা বেশি আতঙ্কিত। যদিও কোন চিকিৎসককে সেবা কেন্দ্রে পাওয়া যায় তবে সেই ক্ষেত্রে রোগী দেখতে অনীহা প্রকাশ করে তারা। দূর থেকে সমস্যার কথা শুনে ওষুধ লিখে বিদায় করে দেন। তাদের নাকি সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। ধরে দেখলে ঝুঁকি আছে। এই অভিযোগগুলো কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগীদের। তবে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করে করে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকা এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর পরিমাণ কমেছে। গত ৪-৫ দিনের আগের তুলনায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি স্বাভাবিক। তাদের চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি নেই।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামের মারজাহান আক্তার জানান, তার পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে বসা চিকিৎসকের কাছে যান। পরপর তিনদিন গিয়েও কোন ডাক্তারকে দেখাতে পারেননি। করোনা আতঙ্কে বেসরকারি হাসপাতাগুলোতেও ভালো ডাক্তার পাননি।

রোগীরা সেবা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, করোনা আতঙ্কে সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় প্রথম কয়দিন রোগী দেখায় চিকিৎসকরা অনীহা প্রকাশ করলেও বর্তমানে তারা সময়মত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন। এমনকি বহির্বিভাগে নিয়মিত রোগী দেখছেন। তবে করোনা আতঙ্ক এবং সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছেন না। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিমাণও কমেছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মোকাবেলায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে ৪৫টি, স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে ৩০টি পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পেয়েছেন। বর্তমানে পর্যাপ্ত গাউন, মাস্ক এবং গ্লাভসসহ সকল ধরণের  সুরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে মেঘনা উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জালাল হোসেন জানান, করোনা আতঙ্কে শুরুতে চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় অনীহা প্রকাশ করলেও সুরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ায় সেই সমস্যা এখন আর নেই। জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে ৭০টির বেশি পিপিই পায় মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা চিকিৎকদের অনীহা কেন জানাতে চাইলে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, কুমিল্লার প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সকল ধরনের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছি। তারপরও কেন? চিকিৎসকরা রোগী দেখায় অনীহা প্রকাশ করছে। আমরা জেলা, উপজেলার সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ডেকে আলোচনা করেছি। তারা যেন সংশ্লিষ্ট কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের অনুরোধ জানায় করোনার এই দুর্যোগ মুহূর্তে ঘরে বসে না থাকে সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে এগিয়ে আসে।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লার ১৬টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেড় হাজারের বেশি পিপিই সরবরাহ করেছে। প্রতি উপজেলায় ৭৫টি পিপিই দিয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজন হলে আরও পিপিই সরবরাহ করবে।

/এফএএন/

লাইভ

টপ