বগুড়ায় করোনা রোগী শনাক্ত, আইসোলেশনে আরও দুজন

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৫৬, এপ্রিল ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০১, এপ্রিল ০৭, ২০২০

bogra

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের জীবানু পাওয়া গেছে। তাকে পৃথক রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাঁচ ব্যক্তি। ল্যাব থেকে তাদের নেগেটিভ রিপোর্ট আসায় তাদের ছুটি দিয়ে রুম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আইসোলেশন ইউনিটে সোমবার করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে আরও দুজন ভর্তি হয়েছেন। এদের একজন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা (৭০) ও আরেক বৃদ্ধা (৭২)।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা.শফিক আমিন কাজল জানান, বর্তমানে যে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার মধ্যে রংপুরের ধাপ মডার্ন মোড়ের এক ব্যক্তির রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও গত ২৯ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল বিকাল পর্যন্ত আইসোলেশনে ভর্তি ১১ জনের মধ্যে একটি  শিশু মারা গেছে। তার নাম সিয়াম। তবে সে করোনা আক্রান্ত ছিল না। তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

তিনি জানান, রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় পাঁচজনকে ছুটি দিয়ে রুম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তারা আলাদা খাওয়া-দাওয়া ও বাথরুম ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে মাঝের একটি ঘর ফাঁকা রাখবেন। তারা কোনও অবস্থাতেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না।

হাসপাতালে ভর্তি মুক্তিযোদ্ধা

করোনার উপসর্গ শ্বাসকষ্ট, কাশি ও জ্বর নিয়ে সদরের এরুলিয়া এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা রামেক হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

বৃদ্ধা আইসোলেশনে, চার বাড়ি লকডাউন

এদিকে, বগুড়ার শাজাহানপুর থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরেক বৃদ্ধা হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় তার পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তার বাড়িসহ আশপাশের চারটি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ওই চারটি বাড়িতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে।

শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সান্নু জানান, বৃদ্ধার শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় তার বাড়ির আশেপাশের চারটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তার শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর থাকবে। এসব বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধুনটে তিন বাড়ির লকডাউন প্রত্যাহার

এদিকে জেলার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনটি বাড়ির লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই পরিবারের এক সদস্যে সর্দি-জ্বর-কাশি-গলাব্যথা থাকায় বাড়িগুলো লকডাউন করা হয়েছিল। তবে তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত না হওয়ায় চারদিন পর রবিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা লকডাউন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এতে ওই চার বাড়ির বাসিন্দা ও গ্রামবাসীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত ওই ব্যক্তি (৪৫) গত ২৪ মার্চ বাড়িতে ফেরেন। তিনি গত ২৯ মার্চ সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহের পর রামেক হাসপাতাল ল্যাবে পাঠানো হয়। ২ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন তার বাড়িসহ তিনটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন। পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাসের নমুনা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, রবিবার রাতে তিনটি বাড়ি থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

/টিএন/

লাইভ

টপ