মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই

Send
আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত : ১১:৩২, মে ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৫, মে ১৭, ২০২০

বাজারে উপচে পড়া ভিড়



স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ঈদ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও ক্রেতারা হাত পরিষ্কার করছেন না। আবার মাস্ক ছাড়াই চলছে কেনাকাটা। কেউ কেউ মুখের মাস্ক গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। 


শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রচুর মানুষের আনাগোনা রয়েছে। বিশেষ করে পোশাক ও জুতার দোকানে বেশি ভিড়। ক্রেতাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই লক্ষ্যনীয়। সঙ্গে করে তারা শিশু সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে দোকানগুলোয় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন তারা। অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। এমনকি বেশিরভাগ দোকানের বিক্রয়কর্মীদের হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক নেই। যাদের মাস্ক আছে তারা সেটি নাক-মুখ থেকে নামিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন।

বাজারে মানুষের ভিড়

কুড়িগ্রাম সাগর সুপার মার্কেট, এনআর প্লাজা মার্কেটসহ কাপড়ের দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হলেও কোনও ক্রেতাকে সেসব সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লকডাউনের মধ্যেও উপজেলাগুলো থেকে লোকজন শহরের মার্কেটে পণ্য কিনতে আসছেন।

হাত ধোয়ার ব্যস্থা থাকলেও কেউ তা করছেন না
শিশু সন্তানকে নিয়ে বাজারে পণ্য কিনতে আসা রাজিয়া বেগম বলেন, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন। কিন্তু বাজারে এসে দেখেন প্রচুর ভিড়। গরমে তার সন্তান মুখে মাস্ক রাখতে পারছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই তিনি কেনাকাটা করছেন।

নিহার রঞ্জন ব্যানার্জি নামে জেলা শহরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে জেলার সুপার মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখি সেখানকার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। সেখান থেকে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে টেস্টি নামে একটি কনফেকশনারিতে এসে দেখি সেখানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এভাবে চলতে থাকলে কোনোভাবেই সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব নয়। প্রশাসনের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা দোকানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। কিন্তু ক্রেতাদের এসব নির্দেশনা মানানো যাচ্ছে না। ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা থাকায় আমরা বেশি চাপও দিতে পারছি না।’

বাজারে উপচে পড়া ভিড়
প্রশাসনের নির্দেশনা সত্ত্বেও বাজারে স্বাস্থ্যবিধি না মানার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন জামিল আজাদ রিন্টু বলেন, ‘আমরা সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবরকম ব্যবস্থা রেখেছি। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা যদি সেটা না মানেন তাহলে তো আমরা তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে হাত ধুয়ে দিতে পারবো না।’

যানবাহনে জীবাণুনাশক স্প্রে না করা এবং বাজারে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেশি, এমন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছু ব্যবসায়ী হয়তো সেটা মানছেন না।’
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে জেলায় অর্ধশত মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বাজারে মানুষ যেভাবে ঘুরছে তাতে দিন দিন করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে।

বাজারে উপচে পড়া ভিড়
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে আমরা চাই মার্কেট বন্ধ থাকুক। কিন্তু লকডাউন শিথিলের সুযোগে মানুষ যদি নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলে তাহলে সব কিছু বন্ধ রাখাই ভালো। এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আমার এমনই পরামর্শ থাকবে।’

জেলার প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী কমিউনিটির সঙ্গে বসেছিলাম। তারা অঙ্গীকার করেছেন যে স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন হবে না। যেহেতু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক প্রবাহ অনেকটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল সেজন্য সব বিষয় বিবেচনা করে এটা করা হয়েছিল। এরপরও এ ধরণের অবস্থা চলতে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ