স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাত, করোনা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:৪৯, মে ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৩, মে ২৫, ২০২০

মসজিদে ঈদ জামাতকরোনা পরিস্থিতির মধ্যে আজ সোমবার (২৫ মে) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। অন্যান্য বছর ঈদের জামাত ঈদগাহে হলেও এবার মসজিদে নামাজের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব রেখে নামাজ আদায়, নামাজ শেষে কোলাকুলি এবং হাত না মেলাতে বলা হয়েছে। নামাজ শেষে করোনা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হলো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আনন্দঘন পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে। ঈদগাহে আর আগে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হলেও এবার করোনার কারণে মসজিদে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। 

সকাল ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। একই মসজিদে সকাল পৌনে ৮টায় দ্বিতীয় ও সকাল সাড়ে ৮টায় তৃতীয় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামাতের ইমাম নোমান আল হাবিব।

এদিকে শহরের জামিয়া ইউনুছিয়া মসজিদ, ভাদুঘর শাহি জামে মসজিদ, কুমারশীল মোড় মদিনা সজজিদ, শেরপুর জামে মসজিদ, পুলিশ লাইস জামে মসজিদ, মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে কয়েক ধাপে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ আদায়কালে মুসলিম উম্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি বৈশ্বিক করোনা মহামারি থেকে মুক্তি লাভের জন্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত

ঈদের নামাজ আদায় শেষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করাহয়। এছাড়া বৈশ্বিক করোনা থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে মোনাজাত করা হয়। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্যও দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, ‘করোনার কারণে এবছর একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট হাজির হয়েছে। আমরা সবাই নিরাপদ দূরুত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এবারের ঈদে আমরা মানুষকে ঘরে থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। ঘরে থাকলেই মানুষ সুস্থ থাকতে পারবো। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রেখে একত্রে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবো। আমরা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করবো।’ পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বশ্রেণি পেশার মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

ঈদ জামাত

ঈদের নামাজ আদায় শেষে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক করলেও এবার কিন্তু সেটা লক্ষ্য করা যায়নি। ঈদের নামাজ আদায় কালে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা মসজিদের বাইরে নিরাপত্তা মূলক দায়িত্ব পালন করেন। 

 নাটোর

স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে নাটোরে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন মসজিদে এসব জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ জামাতজেলার ৩০৩২টি মসজিদে এই নামাজ পড়ান স্থানীয় ঈমাম ও খতিবরা।

নাটোর ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জেলার সব মসজিদেই সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানা হয়েছে। তবে মসজিদে নামাজ হওয়ার কারণে অনেক স্থানেই দুই-তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামায শেষে কোথাও কোলাকুলি বা নির্দেশনা অমান্য করতে দেখা যায়নি।

ঈদ জামাত

জেলার সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ফজলুল উলুম কওমি মাদ্রাসায় সকাল সাড়ে ৬টায় এবং প্রধান জামাত শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে পৌনে ৮টায় পড়ানো হয়।

তবে নামাজ পড়ার জন্য বেশিরভাগ মুসল্লি জায়নামাজ নিয়ে আসলেও সবার মুখে মাস্ক ছিল না।

গোপালগঞ্জ

দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির কামনা করে গোপালগঞ্জের মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদ জামাত

সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে সকাল ৮টায় জেলার সব মসজিদে একযোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার প্রধান ঈদের জামাতে( কোর্ট মসজিদে) ইমামতি করেন মাওলানা হাফিজুর রহমান।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮ দ্বিতীয় ও ৯টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চিরচেনা রীতি ভেঙে এবার শিশু ও বয়স্করা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকে।

ময়মনসিংহ

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য্যের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে ঈদুল ফিতরের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনায় কোনও ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। মসজিদে ঈদের জামাত হয়েছে। ঈদ জামাতে আসা মুসল্লিরা জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে আসেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজে দাঁড়ালেও সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অধিকাংশ মুসল্লিকে মাস্ক ছাড়াই নামাজে আসতে দেখা গেছে। তবে ঈদের জামাত শেষে কেউ কোলাকুলি কিংবা হাত মেলায়নি।

ঈদের জামাতে আসছেন মুসল্লিরা

মহাগরীর চরপাড়া হযরত বেলাল (রা.) জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি মো. আনোয়ার হোসাইন জানান, ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর পরই মসজিদের মাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নামাজের আগে আলোচনায় করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দিক নির্দেশনা মানার জন্য বলা হয়েছে। তবে এবার কোনও মুসুল্লি কোলাকুলি করেনি জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি  ও সরকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদেও খতিব এবং মুসল্লিদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সহায়তা করেছে। 

যশোর

সারাদেশের মতো এবার যশোরেও ভিন্নভাবে উদযাপন হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত হয়েছে। অন্য বছরের মতো ঈদের জামাতে বৃদ্ধ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ছিল না নামাজ শেষে কোলাকুলির দৃশ্য।
নামাজ আদায়ের আগে মুসল্লিরা নিজেদের জায়নামাজ সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধ হয়ে বসেন। নামাজ শেষে করোনা থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করেন। প্রথম জামাতের পর মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের জন্য জীবানুনাশক ছিটিয়ে মসজিদ জীবাণুমুক্ত করা হয়।


ঈদের জামাত
যশোর কালেক্টরেট মসজিদে নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নামাজ শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করেছেন।
আমরা বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এই সময় ধৈর্য ধারণের বিকল্প নেই। আস্তে আস্তে হয়তো শিথিলতা আসবে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমাদের জীবনযাপন করতে হবে।’

নীলফামারী

নীলফামারীর ৬ উপজেলার ৬৪ ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সোমবার সকালে তিন ধাপে জেলার বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 
করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদের নামাজ পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে আদায় করা হয়। 

ঈদ জামাত
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (ইসলামিক ফাউন্ডেশনের) নির্দেশনা মেনে ঈদের নামাজে কোলাকুলি, হ্যান্ডশেক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করা হয়। জেলা শহরের বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। 
জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদরসহ ৩৩৩৭ মসজিদে তিন ধাপে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসন। প্রথম জামাত সকাল ৮.০০, দ্ধিতীয় জামাত ৮.৪৫ ও তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯.৩০ মিনিটে। আইন শৃঙ্গলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মসজিদের প্রধান ফটকে মুসল্লিদের জীবাণুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্গলা বাহিনীর সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ঈদ জামাত
জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের ঈমাম মাওলানা মুক্তি হাবিবুল্যা জানান, করোনা সংক্রমণ এড়াতে মুসল্লিদের সুরক্ষা নিশ্চত করতে শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নিতে পারবে না। এমনকি জামাত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলাতে পারবেন না। এই বিষয় গুলো আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। 

পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান জানান, শহরের শান্তি শৃঙ্গলা রক্ষার্থে আনসার, পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহীনির সদস্যরা কাজছেন।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১৫ নির্দেশনা মেনে মাঠে ময়দানে ঈদের জামাত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্থানীয় মসজিদে তিন ধাপে নামাজ আদায়ের সিন্ধান্ত হয়। 

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ঈদুল ফিতরের জামাত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে শহরের বিভিন্ন মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ জামাতে  অংশ নিতে  মুসল্লিরা ভোর থেকেই জায়নামাজ হাতে নিয়ে দলে দলে মসজিদে আসতে থাকেন। তবে মসজিদে প্রবেশের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

মসজিদের ভেতরে সামাজিক দূরত্ব মেনে জামায়াতে আদায় করে মুসল্লিরা। নগরীর বেশিরভাগ মসজিদেই দুই থেকে তিনটি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে পাড়া-মহল্লার ছোট ছোট মসজিদ গুলোতে ৩ মিটার সামাজিক দূরত্ব মেনে জামায়াত আদায়ের যে বিষয়টি সরকারিভাবে বলা হয়েছিল সেটি অনেক জায়গায় করা সম্ভব হয়নি। তবে এক থেকে দেড় হাত দূরে দূরে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

ঈদের জামাত
নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে এবং করোনাভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে হেফাজত করার জন্য নগরীর প্রত্যেকটি মসজিদ থেকে দোয়া করা হয়

সিরাজগঞ্জ
করোনা পরিস্থিতির কারণে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত
হয়েছে। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব এবং অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মালসাপাড়া কবরস্থান মসজিদ, রেলকলোনি মসজিদ, বাজার স্টেশন জামে মসজিদ, আল হামরা জামে মসজিদ, মাছিমপুর মার্কাস মসজিদ, গোশালা ইসলামিয়া শাহী মসজিদ, টিবি ক্লিনিক মসজিদ, পাঁচতারা জামে মসজিদ, চৌরাস্তা জামে মসজিদ, দরগা রোডস্থ্য মসজিদ-ই-নববী, দিয়ারধানগড়া জামে মসজিদসহ শহরের অন্যান্য মসজিদেও ঈদের নাম আদায় করেন মুসল্লিরা।

ঈদের জামাত
সকাল সাড়ে ৮ টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের এসএস রোডের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পেশ ইমাম মুফতি আবদুল্লাহ সরকার এবং দ্বিতীয় জামাতে হেড মুয়াজ্জিন মওলানা সলাইমান হোসেন ইমামতি করেন।
জামাত শেষে খুতবা পেশ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়েছে। এছাড়া মোনাজাতে সব উম্মতে মোহাম্মদির জন্য গুনাহ মাফ চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিারা প্রবেশ করেন মসজিদে। ঈদ জামাত, কোলাকুলি ও হাত মেলাতে মানা থাকায় সেগুলো মেনেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

বরিশাল

বরিশালে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে সামাজিক দূরত্ব মেনে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত হয়েছে। নগরীর একটি মসজিদে সর্বোচ্চ চারচি জামাত এবং সর্বিনম্ন দুটি জামাতের আ‌য়োজন করা হ‌য়। প্রতিটি মসজিদে বেশিরভাগ মুসল্লি জায়নামাজ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাদের মুখে মাস্ক ছিল। অনেকের হাতে ছিল গ্লাভস। এছাড়া অনেক মসজিদে ডিজইনফেক্টেন্ট চেম্বার, ব্লিচিং পাউডারযুক্ত পাপোস এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ঈদের জামাত

বরিশাল নগরীর চকবাজারের জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। হেমায়েতউদ্দিন রোডের জামে কসাই মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ৩টি জামাত। সদর রোডের বাইতুল মোকাররম মসজিদসহ বেশিরভাগ মসজিদে ২টি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরেছে। এজন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া প্রকাশ করেন।

পিরোজপুর

পিরোজপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সামজ সাড়ে ৭টায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে জেলা প্রশাসক আবু আলী সাজ্জাদ হোসেন অংশ নেয়।

 পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইনস মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজে অংশ নেয়। পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক শহীদ ফজলুল হক সড়কের বায়তুল আমান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে অংশ নেয়। বিভিন্ন মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনা


করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এবার খুলনায় ভিন্ন আঙ্গিকে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল ৮টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। এছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। 

ঈদের জামাত
ঈদের জামাতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি,  দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 
ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, খুলনা বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। 

বাগেরহাট

করোনা থেকে মুক্তি কামনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। সকাল সাড়ে ৭টায় ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ঈদের জামাত

নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের জন্য কর্তৃপক্ষ মসজিদের প্রবেশ দ্বারে হাত ধোয়ার জন্য সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখে। মুসল্লিরা মুখে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সারিবদ্ধভাবে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে মুখে কুশলাদি বিনিময় করলেও হাত মেলানো বা কোলাকুলি কেউ করেননি।

মাগুরা

মাগুরায় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত হয়েছে। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় মাগুরা শহর জামে মসজিদে। ইসলামি ফাউন্ডেশনের তথ্য মোতাবেক জেলার মোট ১৮৭৬ টি মসজিদের মধ্যে ১৫০০ মসজিদে এবারে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ঈদের জামাত

মুসল্লিদের মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষেয়ে আগে থেকেই মসজিদগুলো থেকে ঘোষণা দেওয়ায় অধিকাংশ মুসল্লি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। অধিকাংশ মসজিদে দু’টি করে জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ শেষে করোনা থেকে পৃথিবীর মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়। নামাজের আগেই ঘোষণা দেয়া হয় নামাজ শেষে কোলাকুলি না করতে।


কুষ্টিয়াঈদের জামাত
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় কুষ্টিয়ায় ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। সোমবার সকালে জেলার বিভিন্ন মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়া অফিসের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, জেলায় প্রায় ২৪০০ মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সব মসজিদে সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছে কিনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব। মসজিদ ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি চেয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।







পাবনা


পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত পাবনায় মসজিদগুলোতে পৃথক পৃথক ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নামাজ শেষে কোনও কোলাকুলি, হ্যান্ডসেক করেনি কেউ। অধিকাংশ মুসল্লির নিজস্ব জায়নামাজ নিয়ে এসেছিলেন। তবে অনকে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় হয়নি। 
কয়েকটি মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, মুসল্লিরা বাড়ি থেকেই অজু করে এসেছিলেন। মসজিদের ভেতরে এবং ছাদেও অনেক স্থানে নামাজ আদায় হয়েছে। পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠ, জিলা স্কুল মাঠ, পুলিশ মাঠ, আরিফপুর সদও গোরস্তান মাঠ, বালিয়াহালট ঈদগা মাঠসহ বড়বড় ঈদগা  মাঠ ছিল জনমানব শুন্য। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় হয়নি। কেউ কেউ ঈদের নামাজ করোনা আতঙ্কে আদায় করতে মসজিদে যাননি। 

হিলি

দিনাজপুরের হিলিতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টায় ও সকাল ৯টায় বাংলাহিলি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুটি পৃথক ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মাওলানা রুহুল আমিন ও হাফেজ মাসুদ ঈমামতি করেন। এর আগে মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশ পথে লাগানো জীবাণুনাশক ট্যানেলের ভেতর দিয়ে নিজেদের জীবাণুমুক্ত হয়ে মসজিদের প্রবেশ করেন। এরপরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। উপজেলার সবকটি মসজিদেই একইভাবে নামাজ আদায় করা হয়। তবে দু-একটি মসজিদে সামাজিক দূরত্ব না মানার অভিযোগ রয়েছে। নামাজ শেষে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মানুষের করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়াও নামাজ শেষে মুসল্লিদের কোলাকুলি করতেও দেখা যায়নি।

মসজিদে প্রবেশের লাইন

বাংলাহিলি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেন্দ্রীয় মসজিদে দু’টি জামাতের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও

করোনা ভাইরাসের কারণে এবার সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করা হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অধিকাংশ মানুষই ঘরে বসেই প্রার্থনা করেছেন।
সোমবার সকাল ৮টায় ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈদের প্রথম নামাজ আদায় করা হয়। এই মসজিদে ক্রমান্বয়ে মোট ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শেষে ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম। করোনা ভাইরাস থেকে দেশ ও জাতির সবার মুক্তি লাভের জন্য বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়।

 

 

 

 

 



/এসটি/

লাইভ

টপ