খুলনায় প্লাজমা থেরাপি নেওয়া করোনা রোগীর মৃত্যু

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:০০, মে ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫১, মে ৩১, ২০২০

খুলনায় প্লাজমা থেরাপি নেওয়া প্রথম রোগী তানভির আলমকখুলনায় করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নেওয়া প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা পজিটিভ তানভির আলমকে (৩১) চিকিৎসার পাশাপাশি গত ২৮ মে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। তিনি খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

রবিবার (৩১ মে) সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তানভির আলমের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। তাকে করোনার সব ধরনের চিকিৎসার পাশাপাশি প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। প্লাজমা থেরাপিতে কোনও ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু কোনও চিকিৎসাই কাজে দিলো না। তাকে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক (যিনি সদ্য করোনা মুক্ত হয়েছেন) প্লাজমা থেরাপি দিতে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করেছিলেন। মঞ্জুর আলম নামে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ওই চিকিৎসকের রক্ত থেকে প্লাজমা (রক্তরস) নিয়ে তানভিরকে দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তানভিরকে দেওয়া প্লাজমার ফলাফল পেতে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ সময় ছিল। রবিবার বিকাল পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষণের সময় ছিল। কিন্তু তার আগেই সকালে মৃত্যু হলো।’

তানভির খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের আলাউদ্দীনের ছেলে। গত ২৪ মে তার করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলে তাকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তানভির আলম ঢাকার একটি মোবাইল সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

প্লাজমা থেরাপি বিষয়ে ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, প্লাজমা থেরাপির প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে কোভিড ১৯ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া রোগীর (কমপক্ষে ১৪ দিন আগে সুস্থ হয়েছেন) কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। কারণ একবার করোনায় পজিটিভ হওয়া ব্যক্তি সুস্থ হলে তার শরীরে একটি করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। দ্বিতীয় ধাপে এই প্লাজমা পরীক্ষার পর যথাযথ নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করা বা সঙ্গে সঙ্গেই করোনা পজিটিভ রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তেও অ্যান্টিবডি চলে আসে। গুরুতর বা খারাপ অবস্থার দিকে যাওয়া রোগীদেরই প্লাজমা দিলে ভালো। রক্তের গ্রুপ অনুসারে ক্রস ম্যাচিং করে দ্রুত সংরক্ষিত প্লাজমা রোগীর দেহে প্রয়োগ করতে হয়। এতে ডোনার খোঁজার বিড়ম্বনা নেই। প্লাজমা দ্রুত সংরক্ষণ করলে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ভালো থাকে। এটি প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, এই নিয়ে খুলনায় চার জন করোনা পজিটিভ রোগীর মৃত্যু হলো। আর এই পর্যন্ত খুলনায় ৭৬ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

/এনএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ