পানি বাড়ার সঙ্গে চলছে ভাঙন, নদীতে বিলীন বসতি ও আবাদি জমি

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫৪, জুন ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪, জুন ০১, ২০২০



নদী ভাঙনআম্পান ও কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। জেলার উলিপুর, রাজারহাটে তিস্তার ভাঙন এবং রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বসতভিটা পাশাপাশি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, স্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি আরও দুই-তিনদিন অব্যাহত থাকবে, তবে এতে বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই।





উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে বসতবাড়িসহ আবাদি জমি। ওই এলাকায় ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে অর্ধশত বাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, বাজারসহ বেড়িবাঁধ।
ভাঙনে তিস্তার গর্ভে ভিটে হারিয়েছেন ওই ইউনিয়নের শেখের খামার গ্রামের রুহুল আমীন। তিনি জানান, তার বাড়ি থেকে নদী অনেক দূরে ছিল। হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে নদী ভাঙন শুরু হয়। এতে তার ভিটেমাটি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে তিনি বাঁধের পাশে বাড়ি করেন।

নদী ভাঙন

ওই এলাকার আইযুব আলী, রফিকুলসহ অনেকের অবস্থা একই। তিস্তায় ফসলের ক্ষেত হারানো নুরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘এবছরও জমিতে বাদাম ও পাট চাষ করেছিলাম। হঠাৎ নদী ভাঙনে আমার প্রায় ২৫ শতাংশ জমি নদীতে চলে গেছে এবং এখনও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।’ শেষ পর্যন্ত এক টুকরা জমিও থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

থেতরাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমরা বরাবরের মতোই কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া পাইনি।’
রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র ভয়াল রূপে ফিরে এসেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভাঙন। গত তিনদিনে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর নতুন গ্রামের অন্তত আটটি বাড়ি ব্রহ্মপুত্র গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে আরও অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার। ভাঙনের মুখে পড়েছে পাকা সড়ক ও ফৌজদারী-রাজীবপুর বেড়িবাঁধ। এমতাবস্থায় বুধবার (২৭ মে) ওই এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

নদী ভাঙন
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিজের শেষ আশ্রয়স্থল টুকু হারিয়েছেন বিধবা সুখজান খাতুন, সালেহা বেগম ও জয়নব। তারা জানান, তাদের শেষ সম্বল বলতে শুধু বাড়ির জায়গাটুকুই ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের ভাঙনে সেই আশ্রয়স্থলটুকুও কেড়ে নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র। বাস্তুহারা হয়ে এখন কোথায় কীভাবে থাকবো তা নিয়ে দিশেহারা তারা।

যাদুরচর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবু সামা জানান, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে তার ওয়ার্ডের কয়েকটি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এছাড়াও অর্ধশত পরিবার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ওই এলাকার কৃষি জমিসহ রাস্তাঘাট নদের ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে বিলীন হয়ে যেতে পারে।  

নদী ভাঙন
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। রৌমারীর ভাঙন কবলিত এলাকার বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা এসব ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রধান চারটি নদ-নদীর মোট প্রায় ৩০০ কিলোমিটার তীরের ৪৮ টি পয়েন্ট ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এরমধ্যে শুধু ব্রহ্মপুত্র নদের প্রায় ৯০ কিলোমিটার ভাঙন কবলিত, যার ২১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলমান রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অর্থ ছাড় না হওয়ায় ভাঙন প্রতিরোধ কাজ কিছুটা স্থবির হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ