লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ড: তিন ‘মানব পাচারকারী’র বিরুদ্ধে মামলা

Send
গোপালগঞ্জ প্র‌তি‌নি‌ধি
প্রকাশিত : ২১:৫৫, জুন ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৮, জুন ০১, ২০২০

বাঁ থেকে নিহত সুজন মৃধা ও আহত ওমর শেখলিবিয়ায় গুলি করে গোপালগ‌ঞ্জের সুজন মৃধা ও ফরিদপুরের কামরুল শেখকে হত্যা এবং গোপালগঞ্জের ওমর শেখকে আহত করার ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় তিন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সুজন মৃধার বাবা কাবুল মৃধা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।

আসামিরা হলেন—গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের ওসমান শেখের ছেলে লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ (৪৫), একই উপজেলার যাত্রাবাড়ী গ্রামের মৃত রজব আলী মোড়লের ছেলে রব মোড়ল (৪৫) এবং মাদারীপুরের রাজৈর থানার সত্যবর্তী গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে জুলহাস সরদার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি বাদী কাবুল মৃধা ছেলে সুজন মৃধা এবং ভাগিনা কামরুল শেখকে (বাড়ি- ফরিদপুর জেলার সালথা থানার আলমপুর গ্রামে) লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য আসামি রব মোড়লের সঙ্গে ৮ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি করেন। একই এলাকার কালাম শেখের ছেলে ওমর শেখ চুক্তি করেন চার লাখ টাকার। আসামি রব তাদের ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাস দেয়। এরপর ১৫ জানুয়ারি বাদী দুই লাখ ৫০ হাজার এবং কালাম শেখ ৫০ হাজার টাকা রবকে দেন। রব ওই টাকা অন্য দুই আসামির কাছে পৌঁছে দেয়।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা বাড়িতে এসে লিবিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সুজন মৃধা, কামরুল শেখ ও ওমর শেখকে বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকা থেকে ভারত- দুবাই-কুয়েত-মিশর হয়ে তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়।

পরে ১১ ফেব্রুয়ারি আসামিদের ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। লিবিয়ায় যাওয়ার এক মাস পর চুক্তি ভেঙে দেশটির বেনগাজির মিজদাহ শহরে তাদের তিন জনকে আটকে রাখে দালাল চক্র এবং মুক্তিপণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। চক্রটি সুজন মৃধা, কামরুল শেখ ও ওমর শেখের পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা আদায়ের জন্য পরিবারের কাছে নির্যাতনের ভয়েস এসএমএস পাঠায় চক্রটি।

পরে নির্যাতনের বিষয়টি আসামিদের জানালে, তারা কিছুই করতে পারবে না বলে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে জানিয়ে দেয়। এরপর ২৮ মে সুজন মৃধা ও কামরুল শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

আহত ওমর শেখের বাবা মো. কালাম শেখ ও মা শাহিদা বেগম তার আহত ছেলেকে ফেরত চেয়েছেন। একইসঙ্গে মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'দুই যুবককে গুলি করে হত্যা এবং অপর এক যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর থেকে পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযানে নেমেছে। কিন্তু আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে; দ্রুতই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।'

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুজন মৃধা এবং ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার কামরুল শেখ রয়েছেন। গোপালগঞ্জের অপর যুবক ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে লিবিয়ার ত্রিপলির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

/আইএ/

লাইভ

টপ