মেসভাড়া বাকি থাকায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ৬ ছাত্রীকে আটকে রাখার অভিযোগ

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:১৬, জুন ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪৬, জুন ০৫, ২০২০

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজমেস ভাড়া বাকি থাকায় জন্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছয় ছাত্রীকে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনাভা্ইরাসের প্রাদুর্ভাবে ছুটি শেষে মেসে ফিরলে ভাড়া আদায়ের জন্য বাড়িওয়ালা তাদের আটকে রাখেন। গত মঙ্গলবার (২ জুন) কলেজের ডিগ্রি শাখার পার্শ্ববর্তী ধর্মপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ৪ ঘণ্টার বেশি সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকার পর ছাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে উদ্ধার করেন।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সমাজকর্ম বিভাগের (তালাবদ্ধ থাকা শিক্ষার্থী) মেরিন তানজিনা টুম্পা অভিযোগ করে বলেন, ‘ধর্মপুরের জাহানারা মঞ্জিলে আমরা ছয়জন ছাত্রী থাকি। সবাই ভিক্টোরিয়ায় অনার্স ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় তিন মাস মেসে ছিলাম না। আমাদের টিউশনিও বন্ধ। মঙ্গলবার (২ জুন) ছয় জন মেসে গিয়েছি। বাসায় প্রবেশের পর মূল গেটে আন্টি (বাড়ির মালিক) তালা লাগিয়ে দেয়। আমরা বলেছি, যেহেতু মেসে ছিলাম না, টিউশনিও নেই । ৫০% ভাড়া দেবো। আন্টি বলেছেন পুরো টাকা দিতে হবে। তখন বলেছি, এখন তো কাছে টাকা নেই, মালামাল থাকুক। আমরা মে মাস পর্যন্ত টাকা দিয়ে আমাদের আসবাবপত্র নিয়ে যাবো। তিনি বললেন, আজ যেহেতু মাসের ২ তারিখ, এ মাসের (জুন) ভাড়াও দিতে হবে। তিনি গেটে তালা লাগিয়ে আমাদের চার ঘণ্টার মতো আটকে রাখেন। আমরা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করি। পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’

ধর্মপুর জাহানারা মঞ্জিলের মালিক জাহানারা বেগম বলেন, ‘তাদের কাছে আমি তিন-চার মাসের ভাড়া পাই। আগে এমন করে বহু ভাড়াটে টাকা না দিয়ে চলে গেছে। তারা আমার মেয়ের মতো। আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বলেছি, ভাড়া না দিলে তালা খুলবো না। মেয়েরা আমার বাড়িতে পুলিশ কল দিয়ে এনেছে। ভাড়ার টাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ করি। সরকার যদি (গ্যাস, কারেন্ট, পানি ) এসব বিল মওকুফ করতো, আমিও তাদের মওকুফ করতে পারতাম।’

কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে টিমসহ ঘটনাস্থলে যাই। বাসায় তালা দেওয়া ছিল। মালিককে ডেকে তালা খোলা হয়। এ বিষয়ে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়া ছাত্রী উভয়ের সঙ্গে কথা হয়। মালিক পক্ষ চায় শতভাগ ভাড়া, আর ছাত্রীরা করোনাকালীন সময়ে ৫০% টাকা দিতে চান। প্রাথমিকভাবে বিষয়টির সমাধান করে তাদের বাসা থেকে বের করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। যেকোনও সমস্যায় উভয় পক্ষকে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে বাড়ি চলে যান। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তারা গৃহশিক্ষকতা ও খণ্ডকালীন চাকরি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে রোজগার না থাকায় একসঙ্গে তিন-চার মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে কলেজের সৃজনশীল সংগঠন ক্যাম্পাস বার্তা সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মেস ভাড়া মওকুফের জন্য মে মাসের ১৭ তারিখে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে অধ্যক্ষ স্যার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ির মালিক ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া শতকরা ৫০-৬০ ভাগ মওকুফ করা হলেও ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন না।’

অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ দুঃখজনক। কলেজের সৃজনশীল সংগঠন ক্যাম্পাস বার্তার পক্ষ থেকে মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে আবেদন করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া মওকুফ করতে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র দিয়েছি। পৃথিবীব্যাপী মানুষের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবিক ও উদার হয়ে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বাড়ির মালিক এবং স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়াবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছি আমরা।’

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ