প্রণোদনা না পেলে পথে বসবে দুগ্ধ খামারিরা

Send
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:১০, জুন ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১০, জুন ০৬, ২০২০

দুগ্ধ খামার



করোনার জন্য বিপাকে পড়েছেন গো-খামারিরা। বেড়েছে গো-খাদ্যের দাম। তারওপর খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রি হচ্ছে না ঠিক মতো। এই অবস্থা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে পথে বসার শঙ্কায় আছেন ঝিনাইদহের খামারিরা। তাই সরকারি প্রণোদনা না পেলে পথে বসবেন বলে জানিয়েছেন তারা। 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধনঞ্জয়পুর গ্রামে ২০১৪ সালে ৪ একর জমির ওপর এম আর এইচ অ্যাগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি খামার তৈরি করেন রোকনুজ্জামান রিপন। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৭টি গাভী নিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ছোট বড় ৪২টি গরু রয়েছে তার ফার্মে। এর মধ্যে ২২টি। যা থেকে প্রতিদিন দুধ হচ্ছে ১২০ লিটার। ব্র্যাক ডেইরি ফার্ম ও হোটেলে দুধ বিক্রি করলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। এতে পানির দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে। রোকনুজ্জামানের মতো ঝিনাইদহের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিদের একই অবস্থা।

দুগ্ধ খামার

তিনি বলেন, কোম্পানির বাইরের অতিরিক্ত দুধ এতদিন মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হতো। করোনার কারণে সেসব বন্ধ ও হাট-বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ধস নেমেছে দুধের বাজারের। শুধু তাই নয়, যানবাহন ঠিকমতো চলাচল না করায় গরুর খাদ্য আনা-নেওয়ার সমস্যার পাশাপাশি বেড়েছে দাম। ফলে সঠিকভাবে খাদ্য দিতে না পারায় দুধের উৎপাদনও কমেছে। বর্তমানে তার খামারে ৬০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। 
খামারে ৫/৬জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া এবং গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যাংক থেকে এককোটি টাকা ঋণ নিয়ে সুদ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। তার মতো অন্যান্যদের খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনাসহ ঋণের সুদ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।

দুগ্ধ খামার

ঝিনাইদহ প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলায় ছোট বড় প্রায় ৫০ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। প্রতিদিন দুধ উৎপাদন হয় ২৮৪ মেট্রিক টন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আনন্দ কুমার অধিকারি বলেন, করোনায় খামারিরা লোকসানের বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবে বলে আশা করছি।

/এসটি/

লাইভ

টপ