রেড জোন লক্ষ্মীপুর লকডাউন, মৌলভীবাজার ও খাগড়াছড়িতে জোন চিহ্নিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:০৫, জুন ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৪, জুন ১৬, ২০২০

রেড জোন

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশ রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক জায়গার রেড জোনে লকডাউন শুরু হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও লকডাউন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তিারিত জানানো হলো। 

ক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর জেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর ৬টা থেকে সেখানে লকডাউন করা হয়েছে। ৩০ জুন রাত ১২ পর্যন্ত পুরো জেলা লকডাউন থাকবে। সোমবার (১৫ জুন) জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল একথা জানান।

রেড জোনের মধ্যে রয়েছে, জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, পার্বতী নগর, বাঙ্গাখা, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, কুশাখলী ইউনিয়ন ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১, ২, ৫, ৬, ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড। কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স, চর ফলকন, হাজির হাট ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন। রামগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ পৌরসভা, রায়পুর উপজেলার রায়পুর পৌরসভার  ও রামগতি উপজেলা।

লকডাউনের সময় শপিং মল ও সব ধরনের দোকানপাট, আন্তঃউপজেলায় গণপরিবহন, সিএনজি ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা ও সাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না।

শ্রীমঙ্গল

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা সিভিল সার্জন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকা ইয়েলো ও গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রেড জোনের মধ্যে রয়েছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহর ও শহরতলীর ক্যাথলিক মিশন রোড, রূপসপুর, সবুজবাগ, মুসলিমবাগ, লালবাগ, বিরাহিমপুর, কালিঘাট রোড ও শ্যামলী আবাসিক মিলিয়ে মোট ৮টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া কালাপুর, আশিদ্রোন ও কালিঘাট ইউনিয়নকে ইয়েলো জোন। আর মির্জাপুর, সিন্দুরখান, রাজঘাট সাতগাঁও ইউনিয়ন গ্রিন জোন ঘোষণা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

জোন কার্যকরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা পেলেই জোন ভিত্তিক সিদ্ধান্ত কার্যক্রম শুরু হবে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে তিনটি জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার রেড জোনের মধ্যে রয়েছে, খাগড়াছড়ি পৌরসভা, রামগড় পৌরসভা ও মানিকছড়ি উপজেলা এলাকা। ইয়েলো জোনে রয়েছে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও মাটিরাঙা পৌরসভা এলাকা। আর গ্রিন জোনে রয়েছে, মাটিরাঙা, রামগড়, মহালছড়ি, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলা। তবে পুরো খাগড়াছড়িকে ইয়লো জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও সামাজিক সতর্কতাই পারে আমাদেরকে করোনা মুক্ত রাখতে। বাসায় থাকুন, অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না। মাস্কসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।’

কিশোরগঞ্জ

এদিকে, কিশোরগঞ্জে জোন চিহ্নিতের কাজ চলছে। জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ‌্যা। সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ‌্যা ৯৪৮ জন। আর মারা গেছেন ১৭ জন। এ জেলাকে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেছিল স্বাস্থ‌্য অধিদফতর। এদিকে এলাকায় রেড জোন চিহ্নিতের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। সোমবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জানানো হয়, এলাকার একটি মানচিত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা এলেই লকডাইন করা হবে।

সভায় সিভিল সার্জন জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত ৯৪৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই সংক্রমণের সংখ্যানুপাতে এলাকাভিত্তিক জোনিং করে রেড জোন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অচিরেই রেড জোন লকডাউন করা হবে।

সভায় পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, পুরো শহরে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্যবিধি পর্যবেক্ষণ ও আরোপের ক্ষেত্রে এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে এসব অনেক বেশি কাজে আসবে।

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ