প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার তালিকায় নয়-ছয়ের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি চার জনপ্রতিনিধির

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:০৮, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩১, জুন ৩০, ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা নয়-ছয়ের যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন চার জন প্রতিনিধির

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার তালিকায় চারজন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়-ছয়ের অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও দূরভিসন্ধিমূলক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চার জনপ্রতিনিধি।

তারা হলেন, কসবা উপজেলার বায়েক বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন ভূইয়া, খাড়েরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈম, কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিক ও কসবা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু জাহের।

কসবা মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে সোমবার দুপুরে  অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আল মামুন ভূইয়া দাবি করেন, আমরা এলাকার সকলের মতামতের ভিত্তিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছি। মোট ৬৭০ জনের তালিকা করা হয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে ৩৫ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তালিকা আমরা করিনি। করেছে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারগন। এ ব্যাপারটি এলাকার শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সচেতন সকলেই অবগত আছেন। যারা আমাদের তালিকা অস্বচ্ছ বলে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছে তাদের ঠিকানা এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়গুলোকে মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, কারো সৎ সাহস থাকলে সামনে এসে অভিযোগ করুন। এতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ছায়েদুর রহমান মানিক দাবি করেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার তালিকা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এছাড়া যাদের নাম বলা হয়েছে তারা কেউ অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী পাঁচ জনের মধ্যে চারজনকে হাজির করেন তিনি। তারা সকলেই অভিযোগের কাগজে স্বাক্ষর করেননি বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ছায়েদুর রহমান মানিক বলেন, এসব প্রতিপক্ষের সাজানো কাজ।

এসময় ঘটনা সঠিক হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খাড়েরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ খাঁন অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈম। তিনিও দাবি করেন, কয়েক দফা যাচাই বাছাই করার পর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপরও এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্রকারীদের কাজ। কোথাও অস্বচ্ছতা হয়ে থাকলে তিনিও তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কসবা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু জাহের নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, আমি একাধারে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পরে যুবলীগের সভাপতি ছিলাম এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। কেউ যদি বলেন এবং প্রমাণ করতে পারেন আমি প্রধানমন্ত্রীর অনুদান নিয়ে নয়-ছয় করেছি এখনই পৌরসভার জনপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) পদ থেকে পদত্যাগ করবো। এসব অভিযোগের মাধ্যমে আমাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকেরা ছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার তালিকায় চার জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়-ছয়ের অভিযোগ এনে গত ২১ জুন কসবা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. আবু জাহের, ২২ জুন কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, ২৩ জুন খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ খান ও ২৪ জুন বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক অনুলিপি দেওয়ার মাধ্যমে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ