‘ক্লান্ত হলেই শরীরে ছিটিয়ে দেওয়া হতো গরম তেল’

Send
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৩৯, জুলাই ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৬, জুলাই ০১, ২০২০

কিশোরী আছমার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গরম তেল ছিটিয়ে দেওয়া হতোগাজীপুরের এক কিশোরীকে ঢাকার বাসায় কাজ করার কথা বলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে নির্যাতনের শিকার কিশোরী আছমা খাতুনের (১৪) শরীরে বাসার মালিক গরম তেল ছিটিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় সিগারেটের ছ্যাঁকা, লাঠিপেটা আর লাথি-কিলসহ চলতো অমানবিক নির্যাতন। আছমা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের ঈমান আলীর মেয়ে।

এসব বিষয় উল্লেখ করে কিশোরীর মা জোছনা বেগম শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি আবু তাহের-শাহাজাদী দম্পতি, তাদের প্রতিষ্ঠানের (ফারসিং নিট কম্পোজিট লিমিটেড) মহাব্যবস্থাপক বাবুল, ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম, সহকারী ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেনকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করেছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আছমার গ্রামের বাড়ির পাশেই ফারসিং নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার অবস্থান। ওই কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাহের ঢাকার উত্তরায় ৩ নম্বর সেক্টরের ৭/বি রোডের ৩১ নম্বর বাসায় বসবাস করেন। তাহের-শাহজাদী দম্পতি মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাসার কাজের জন্য বছরখানেক আগে আছমাকে উত্তরার বাসায় নিয়ে যান। তবে ঘরের কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিতে চাইলে আছমাকে নির্যাতন করা হতো। শরীরে গরম তেল ঢেলে দেওয়া, লাঠিপেটা করা এবং বিভিন্ন সময় সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেওয়া হতো। এতে কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম তৈরি হয়। এ অবস্থায় কিশোরীকে কোনও চিকিৎসা করানো হয়নি। করোনার অজুহাতে কিশোরীকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেওয়া হতো না। এদিকে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৯ জুন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে তার বাড়ির উদ্দেশে গাড়িচালকের মাধ্যমে একটি যাত্রীবাহী বাসে তুলে দেওয়া হয়। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে এসব ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। পরে কিশোরীকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

কিশোরীর বাবা ঈমান আলী বলেন, বাসার মালিক আবু তাহের ও তার স্ত্রী শাহজাদী কাজ করানোর জন্য নিয়ে গেলেও আমার মেয়েকে স্নেহ দিয়ে রাখার কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কথা রাখেননি। বরং কাজের চাপে আমার কন্যা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তখন তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

কিশোরী আছমার অভিযোগ, বাসার মালিক আবু তাহের মাঝে মধ্যেই কিল-ঘুষি দিয়ে নির্যাতন করতেন। কয়েকবার সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকাও দিয়েছেন। তার স্ত্রী শাহজাদীও শরীরে দিতেন গরম তেলের ছিটা। তারপর দগ্ধ ঘায়ের ওপর মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিতেন। গত চার মাস ধরে এমন নির্যাতন চালানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফারসিং নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিযুক্ত আবু তাহেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। কারখানায় গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, নির্যাতিতার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু ঘটনাস্থল ঢাকার উত্তরা, তাই ওই থানার সার্কেল স্যার ও ওসির সঙ্গে কথা বলে নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে উত্তরা থানায় পাঠানো হয়েছে এবং ওই থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ