যমুনার পানি বিপদসীমার ৭৭ সে.মি. ওপরে

Send
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:৪০, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৯, জুলাই ০২, ২০২০

জামালপুরে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপদসীমার ৭৭ সেন্টি মিটার ওপর দিতে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাইসহ অন্যান্য শাখা নদীতে। ফলে অপরিবর্তিত রয়েছে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকাল ৩টার দিকে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। ফলে জামালপুর সদর উপজেলার কিছু কিছু নিচু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

এদিকে জামালপুর জেলার ৪২ ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। নলকূপ তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউশ, বাদাম ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান দুর্গতরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মাদারগঞ্জের সিঁধুলী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি ঢুকে পড়ছে সদরের ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলেও। সব মিলিয়ে জেলার ৭ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের দিন কাটছে পানিবন্দি অবস্থায়। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গোখাদ্যের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, পুরো জেলার ৪২টি ইউনিয়নের ৪ শতাধিক গ্রামের ৩ লাখ ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বানভাসিদের জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব ত্রাণ পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশঙ্কা, ভারতে যদি বন্যা হয় তবে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হবে।

/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ