এখনও গরু কিনতে আসেনি মহাজন, চিন্তায় খামারিরা

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:১৯, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৯, জুলাই ০৫, ২০২০

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু



কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার নীলফামারীর ছয় উপজেলায় ৫৯ হাজার গবাদি পশু প্রস্তত করা হয়েছে। করোনার কারণে এখনও মহাজনরা গরু-ছাগল কিনতে খামারিদের কাছে আসেনি। হাটও শুরু হয়নি। ফলে ভালো দাম তো দূরের কথা পশু বিক্রি নিয়ে চিন্তায় আছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী জানান, গত বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল ৫৮ হাজার ১২০টি পশু। এবার ৫৯ হাজার। ১৮ হাজার ৫০২ জন খামারি এসব পশু লালন পালন করেছেন। 

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু
জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার খামারি শফিয়ার রহমান জানান, কোরবানির সময় গরু বিক্রির আয়ের টাকায় বছরের ৭-৮ মাস ভালোই চলে যায়। কিন্তু এবার করোনার ভয়ে মহাজনরা এখনও খামারিদের কাছে আসেনি। হাট বসতেও শুরু করেনি। মনে হচ্ছে এবার পশুর চাহিদা কম। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভালো দামের আশাও করা যায় না। এবার গরুর খাওয়া খরচের টাকাই উঠবে কিনা তা নিয়ে ভাবছি।
ডোমার ও ডিমলার তিস্তা অববাহিকার নিন্মাঞ্চল সামন্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ সময় কর্মহীন থাকেন ওইসব এলাকার লোকজন। প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে তারা। এতে বছরের ৮-৯ মাস ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার ভালোমতোই চলে।

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু
ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত ছাতনাই ও দোহল পাড়ার খামারি মকবুল হোসেন ও মোত্তালেব হোসেন জানান, বাজার থেকে কম দামে ছোট বকনা ও এঁড়ে বাছুর কিনে এনে স্থানীয় পদ্ধতিতে কচি ভুট্টার গাছ, কাঁচা ঘাস, গমের ভূষি, ধানের কুড়া, খৈল, লবণ ও চিটাগুড় খাইয়ে লালন পালন করে থাকে। ঈদের সময় বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ হবে এ আশায়। এসব গরুর চাহিদাও বেশি থাকে। তবে এবার হিসাবটা উল্টে দিয়েছে করোনা। লকডাউনে দোকান ও ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় মানুষের আয় কম। তাই এবার কোরবানি দাতার সংখ্যাও কমে যেতে পারে। এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন খামারি।

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু

জেলা শহরের খামারি আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা গরু বর্গা নিয়ে লালন-পালন করে থাকি লাভের আশায়। আমাদের মতো শত শত বর্গাদার এবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। করোনার জন্য আয় উপার্জন না থাকায় হাঁড়িদার কম হতে পারে। আর এতে গরু বিক্রি কম হবে। এজন্য সঠিক দামে গরু বিক্রি করতে পারবো কিনা এ নিয়ে চিন্তায় আছি। লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা উঠবে কিনা জানি না। পশু বিক্রির পর টাকা দু’ভাগ হবে। মালিক একভাগ আমার একভাগ।’
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, জেলায় এখনও পশুর হাট বসতে ১৫-২০ দিন দেরি আছে। তবে ভারতীয় গরু বাজারে না এলে জেলার ১৮ হাজার খামারি ও স্থানীয়রা লাভবান হবেন।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ