মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) শওকত আলী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৬:০৪, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৭, জুলাই ০৫, ২০২০

 মেজর (অব.) শওকত আলী বীর প্রতীক

মুক্তিযুদ্ধের এক নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.)  শওকত আলী (৬৮) বীর প্রতীককে নগরীর গরিব উল্লাহ শাহ মাজারে জানাজা শেষে সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) বাদ জোহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।

শওকত আলীর ছেলে মো. ইমরান মোরশেদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল পাঁচটা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়।

মো. ইমরান মোরশেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাবা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিসহ নানান রোগে ভুগছিলেন। ১০ দিন আগে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকালে তিনি মারা যান। আজ বাদ জোহর নগরীর গরিব উল্লাহ শাহ মাজারে জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

শওকত আলীর বাবার নাম এম আশরাফ আলী, মা শিরীন আরা বেগম, স্ত্রী নাসিমা বেগম। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। পৈতৃক বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামে। তাঁর বাবা রেলওয়ের চিফ ট্রাফিক ব্যবস্থাপক ছিলেন।  

১৯৬৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে শওকত আলী ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। ১৯৭০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মার্চের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম ফিরে এসে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একাংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করেন। ১১ এপ্রিল কালুরঘাটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁদের আক্রমণ করে। এ সময় সেতুর পশ্চিম প্রান্তে বাম দিকে তিনি ও আরও কয়েকজন গণযোদ্ধা প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিলেন।

এরপর ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে তাঁরা অবস্থান নেন রাঙামাটির নানিয়ারচর থানার বুড়িরহাটে। ১৮ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটালিয়ন তাঁদের অবস্থানে আক্রমণ করে। সেখানেও তাঁরা দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধ করেন। বুড়িরহাট থেকে সরে গিয়ে তাঁরা অবস্থান নেন খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে। ২৭ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল স্থানীয় মিজোদের সঙ্গে নিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ করে। সেখানেও অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান।

শওকত আলী এরপর ভারতে যান। পরে যোগ দেন প্রথম বাংলাদেশ ওয়ারকোর্সে। প্রশিক্ষণ শেষে ১ নম্বর সেক্টরের মনুঘাট সাব-সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন। ফটিকছড়িতে যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক অফিসারসহ বিপুলসংখ্যক সেনা তাঁদের হাতে নিহত হয়। পরে হেঁয়াকো-নাজিরহাটে তাঁরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে কিছু এলাকা মুক্ত করে সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য শওকত আলীকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ