লঞ্চে ধর্ষণ থেকে বাঁচতে মেঘনায় ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় আটক ৩

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৩৬, জুলাই ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৭, জুলাই ০৭, ২০২০

ভোলালঞ্চে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে কিশোরীর (১৬) মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় ওই লঞ্চের তিন স্টাফকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) তাদের আটক করা হয় বলে জানান তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জিয়াউল হক।

আটক তিন জন হলো, লঞ্চের বাবুর্চি মো. হোসেন ওরফে গিয়াস উদ্দিন, শাকিল (১৯) ও শাকিল (১৮)।

ওসি আরও জানান, আটক তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। ওই কিশোরীর কোনও অভিভাবক পাওয়া যায়নি। নয়-দশ বছর আগে তার মায়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর আরেকজনকে বিয়ে করে তার বাবা ঢাকায় থাকে। তার মাও আবার বিয়ে করে নোয়াখালী থাকে। কিশোরী তজুমদ্দিন উপজেলায় নানির কাছে থাকতো। সে অনেকটা ভবঘুরে টাইপের। ইতোপূর্বে ওই কিশোরী একাধিকবার ট্রলার থেকে মেঘনায় ঝাঁপ দিয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ তার অভিযোগের ব্যাপারে নিবিড় তদন্ত করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার হতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে চলন্ত লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেয় ওই কিশোরী। ভোলার তজুমদ্দিন ঘাট থেকে ছাড়া কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। পানিতে পড়ার পর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার না করেই চলে যায়। অনেক পরে জেলেদের ট্রলারে উদ্ধার হওয়ার পর তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ওই কিশোরী রবিবার (৫ জুলাই) এ অভিযোগ করে।

কিশোরী জানায়, কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন ঘাট থেকে লঞ্চে ওঠে সে। লঞ্চে ওঠার পর থেকেই কয়েকজন স্টাফ তাকে একটু পর পর বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয় এবং উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে তাকে ঢোকানোর জন্য হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। প্রথম সে বাধা দেয়। এরপর চিৎকার করে। এরপর ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে নিরূপায় হয়ে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেয় সে। পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পরপরই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির স্রোত বেশি থাকায় সে সেটি ধরতে পারেনি। এরপর তাকে উদ্ধার না করেই ঢাকার পথে চলে যায় লঞ্চটি। এ অবস্থায় নদীতে অনেকক্ষণ সাঁতার কেটে চিৎকার করতে থাকে সে। এরপর জেলেদের একটা ট্রলার তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।

উদ্ধার করা নৌকার জেলে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন। এমন সময় নদীর মাঝে মেয়েটির ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান এবং উদ্ধার করেন। পরে তাকে স্থানীয় মিজান তালুকদারসহ অন্যরা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আরও পড়ুন: ধর্ষণ থেকে বাঁচতে লঞ্চ হতে মেঘনায় ঝাঁপ!

 

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ