ভেলায় ভেসে আম সংগ্রহ!

Send
জাকির মোস্তাফিজ মিলু, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত : ২৩:১৫, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২১, জুলাই ০৯, ২০২০

 

বর্ষায় ভেলায় ভেসে শাপলা-শালুক তোলার দৃশ্য দেখে সবাই অভ্যস্ত। তবে এবার ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার বেশ কয়েকটি আম বাগান তলিয়ে যাওয়ায় ভেলায় চড়ে আম সংগ্রহ করছেন চাষিরা। গত কয়েকদিন ধরে পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের লোহাগাড়া, বনবাড়ি, অতরগাঁও গ্রামের বিভিন্ন আম বাগানে চাষিদের ভেলায় চড়ে আম তুলতে দেখা গেছে।

এদিকে আম চাষিরা বলছেন ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে এবার তারা বাগানের সঠিক পরিচর্যা করতে পারেননি। ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির আম বাগানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে বিবর্ণ হয়ে গেছে বাগানের অধিকাংশ আম। সেই আম নিতে আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। তাই এবার কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের, এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। 

বাগান মালিকরা জানান, আমের গাছ পানিতে ডুবে যাওয়াতে আমের রঙ ও স্বাদ নষ্ট হচ্ছে। অতিদ্রুত সব আম গাছ থেকে না নামালে তা নষ্ট হয়ে যাবে। সাধারণত আম্রপালি জাতের আমে কিছু কিডস আম গাছে রেখে থাকেন বাগানিরা, যা পরে বিক্রি করে বেশ মুনাফা পাওয়া যায়। তবে এবার গাছ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেই মুনাফা থেকেও বঞ্চিত হবেন তারা।

বাগানিরা আরও বলেন, গত বছর এই সময়ে যে বাগান চার লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেই বাগান দুই লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লকডাউন আর করোনাভাইরাসের অজুহাতে ঢাকায় আম পাঠাতেও ট্রাক প্রতি গুণতে হচ্ছে সাত হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া।

আম ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন বলেন, ঢাকায় আম পাঠাতে গতবছরের খরচ বেশি হচ্ছে। ঢাকায় তগ বছর আম পাঠাতে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার, এবার তা বেড়ে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগছে।

চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় দুই হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যাপুরী, মিশ্রিভোগ, হাড়িভাঙ্গা, বান্দিগৌরি, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়েছে। এ থেকে ৪৩ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন আমের ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

পীরগঞ্জ উপজেলা আম বাগান মালিক সমিতির সভাপতি আবু জাহেদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল বলেন, আমের পরাগায়ণের সময় বৃষ্টিতে কিছু মুকুল নষ্ট হয়। এখন অবশিষ্ট মুকুলের আম অতি বর্ষণে নষ্ট হতে বসেছে। সব মিলিয়ে বাগানিরা আমরা বেশ ক্ষতির মুখে আছি। আমে বালাই নাশক স্প্রে করা হয়, কিন্তু মানসম্মত বালাই নাশক পরিমাপক যন্ত্র কৃষি বিভাগে নেই। এই যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকলে আমরা মানসম্মত বলাইনাশক ব্যবহার করে উপকৃত হবো বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, এবার আমের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ও পরিবহন ব্যবস্থা ভালো হলে চাষিরা ভালো পেতেন। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে ও জলাবদ্ধতায় আমের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ