রূপপুর প্রকল্পের কর্মীদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিয়ে লাখ টাকার বাণিজ্য!

Send
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:২৭, জুলাই ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৪, জুলাই ১০, ২০২০




রূপপুর মেডিকেয়ার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণ প্রকল্পে চাকরি করতে আসা শ্রমিক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ সুযোগে পাকশীর ‘মেডিকেয়ার’ নামের একটি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিয়ে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে অনুমোদনহীন ওই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক আবদুল ওহাব রানাকে (৪০) বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রানা ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের চর রূপপুর নলগাড়ী গ্রামের জামাত আলীর ছেলে।

প্রকল্পের শ্রমিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুল ওহাব রানা এবং নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ পরস্পর যোগসাজসে নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাণিজ্য করেছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান কোম্পানি টেস্ট রোসেমসহ বিভিন্ন কোম্পানির শ্রমিকদের তারা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছে। এ জন্য তারা প্রকল্প সংলগ্ন ফটু মার্কেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাঠে তাবু টাঙিয়ে লোক দেখানো নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমও চালায়। এই নমুনা তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আর প্রতি রিপোর্টের জন্য ৫-৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর অনলাইনে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের ঠিকানায় রিপোর্ট আসে। সেখান থেকেই কম্পিউটার প্রিন্টের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রার্থীদের দেওয়া হয়। ওইসব রিপোর্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদের স্বাক্ষর রয়েছে।

কিন্তু করোনার নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো নমুনা সংগ্রহ করবে। সিভিল সার্জনের অনুমতিতে সেগুলো নির্ধারিত পিসিআর ল্যাবে যাবে। রিপোর্টগুলোও সিভিল সার্জন অফিস কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু এসব নিয়মের কোনও তোয়াক্কা না করেই রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক অবৈধভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদ জানান, রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুল ওহাব রানাকে আমি চিনি না। ওই নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ৫০ জনের নমুনা টেস্টের রিপোর্ট আমরা গত ৬ তারিখে পাঠিয়েছি।

করোনা সার্টিফিকেটতিনি আরও জানান, রূপপুর প্রকল্পের শ্রমিকদের করোনা টেস্টের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমাদের ধারণা ছিলো রূপপুর মেডিকেয়ার সরকারি অনুমোদন নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু তাদের কোনও অনুমোদন নেই জানতে পেরে তাদের কোনও নমুনা আমরা আর গ্রহণ করছি না। এই জন্য তারা হয়তোবা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেষ্ট করাচ্ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এফ এ আসমা খান জানান, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কিট বা অ্যাম্পুলের তীব্র সংকট। এই জন্য আমরাই নিরুপায়। সেখানে অনুমোদনহীন রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিক কীভাবে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রদান করছে তা আমার জানা নেই। তবে ক্লিনিকের মালিক অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতেই করোনার নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট দিয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দীন জানান, রূপপুর প্রকল্পের ১৭০ জন শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছিলো মেডিকেয়ারের মালিক রানা। পরীক্ষা বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ফি নেওয়া হয়। নমুনা সংগ্রহ করেন চক্রের আরেক সদস্য নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটাবাড়িয়ার আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ।

প্রকৃতপক্ষে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো ছিল বলে জানান ওসি।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ