করোনা উপসর্গে তিন জেলায় ৭ জনের মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:১১, জুলাই ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৫, জুলাই ১৩, ২০২০

করোনাভাইরাসরাজশাহী, কুমিল্লা ও ঝিনাইদহে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে দুই জন, কুমিল্লায় তিন জন এবং ঝিনাইদহে দুই জন রয়েছেন। গত শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

রাজশাহী

করোনা উপসর্গ নিয়ে রবিবার (১২ জুলাই) রাজশাহীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের একজন কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক অ্যাডভোকেট মেহেদি হাসান জানান, নগরীর বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজশাহীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম করোনার উপসর্গে মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আসাদুল ইসলামের ভাতিজা নাজমুল হক জানান, বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে পরীক্ষায় তার করোনা ধরা পড়েনি। তিনি আরও জানান, পাতলা পায়খানা দেখা দিয়েছিল চাচার। এরপর বাড়ির টয়লেটে পড়ে গেলে তিনি মাজায় ও মাথায় আঘাত পান। ডাক্তাররা তাকে করোনার চিকিৎসা দেন।

রামকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশ দাফনের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছসেবীদের বলা হয়েছে।

এদিকে, আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর অভয়ার মোড় এলাকায় মেয়ের বাসায় মোজাফফর হোসেন (৫৫) নামে ট্রাফিক বিভাগের এক কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। গত ৭ জুলাই মোজাফফর হোসেনের শরীরের জ্বর আসে। তাই তিনি বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

মোজাফফর হোসেনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত জাবান আলী। তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে এবং তিনি পুলিশ লাইন্স ব্যারাকে থাকতেন। করোনা পরীক্ষার জন্য তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশ নিজের গ্রামে দাফন করেছেন।

কুমিল্লা

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ আরও তিন জন মারা গেছেন। হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে একজন, করোনা ওয়ার্ডে একজন এবং আইসোলেশনে একজন মারা যান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম এসব তথ্য জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে আইসোলেশনে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আলী আহম্মেদের ছেলে শের খান (৬০), আইসিইউতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে সুজন (৩১) এবং করোনা ওয়ার্ডে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা থানার মাহেরপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে রোকসানা (৭০) মারা যান। 

উল্লেখ্য, মেডিক্যালটির করোনা ইউনিটে পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৯৮ জন। এদের মধ্যে করোনায় ৬৮ জন এবং উপসর্গে ১৩০ জন মারা যান।

অন্যদিকে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সূত্র মতে, কুমিল্লা জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৭৪ জন। সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৪২৭ জন। মারা গেছেন ১২২ জন।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহে করোনা উপসর্গে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন— পৌরসভার খাজুরা জোয়ার্দ্দারপাড়া এলাকার মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে আক্তার মণ্ডল। তিনি শহরের মুন্সি মার্কেটে দর্জির কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসুখে থাকা অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। এদিকে একই  রাতে শহরের চাকলাপাড়ার মসলেম শেখের ছেলে সামছুল আলী করোনা উপসর্গ নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের আলী গার্মেন্টস এর মালিক।

ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আব্দুল হামিদ খান জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের জানাজা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তাদের লাশ দাফন সম্পন্ন করেছেন। কমিটি এ পর্যন্ত জেলায় ২৩ জন করোনা আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করেছে।

/আইএ/

লাইভ

টপ