তিস্তায় রেট অ্যালার্ট প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার ২৭০ পরিবার

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:২৮, জুলাই ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৩, জুলাই ১৪, ২০২০

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষনীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে তিস্তায় বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পাউবোর গেজ পাঠক নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানায়, বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪ টি স্লুইস গেট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সোমবার রাত থেকে রেট অ্যালার্ট প্রত্যাহার করে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারতের দো-মহনী ও গজলডোবা ব্যারাজের বিপদসীমার ওপর দিয়ে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবেশ করায় ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে থাকে। পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪ টি স্লুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক মুঠোফোনে জানান, চার দিনের টানা বৃষ্টি ও গজলডোবা ব্যারাজের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ হাজার ২৭০ পরিবারের প্রায় ২২ হাজার মানুষ ঘর ছাড়া হয়েছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৬২.৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আমার ইউনিয়ন পেয়েছে ১১০ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ টাকা।
এদিকে, ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানীসহ কিশামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিম খড়িবাড়ি, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, বাইশ পুকুর, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকার বানভাসি মানুষ গবাদি পশু নিয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছে। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সমস্যা। নেই কোনও শৌচাগারের সুব্যবস্থা। শিশু খাবারেরও প্রচুর সংকট।
জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার বন্যা কবলিত। এ ছাড়াও বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য ফসলি জমির বীজতলা ও রোপিত আমনের রোপা তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে খামারের অসংখ্য মাছ। এতে শিশু ও বয়স্করা পড়েছে বিপাকে। বন্যার্তরা বেঁচে থাকার তাগিদে লড়াই করে যাচ্ছেন। বন্যার পানির স্রোতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকা নজরদারি করছেন। তিনি জানান, প্রথম দফা বন্যায় ১ দশমিক ৭৭০ মেট্রিক টন চাল, নগদ এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা ও ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় ৬০ মেট্রিক টন চাল, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তৃতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৬ হাজার ২৭০। বাড়িঘর ভেঙেছে ১৪৭ পরিবারের। নদী ভাঙনের শিকার ৭৯ পরিবার। এতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬২. ৭০ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার। তা দ্রুত বিতরণের কাজ শুরু হবে। ভানভাসিদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

/আরআইজে/

লাইভ

টপ