চার জেলায় পানিতে ডুবে জোড়ায় জোড়ায় শিশুর মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৫:৫১, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০৩, জুলাই ১৫, ২০২০

 পানিতে ডুবে গেছে শিশু
দেশের চার জেলায় পানিতে ডুবে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজার, নরসিংদী, কুড়িগ্রাম ও ফরিদপুর জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাচত্রে প্রতিটি জেলাতেই দুটি করে শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:

শ্রীমঙ্গলে পুকুরে ডুবে দুই সহপাঠীর মৃত্যু      

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নে একই বাড়ির পুকুরে ডুবে দুই শিশু সহপাঠীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিমভাড়া গ্রামের এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শিশু দুটি হচ্ছে ভাড়াউড়া গ্রামের মধু মিয়ার মেয়ে রেশমী বেগম (৬) ও ফারুক মিয়ার মেয়ে মারিয়া (৫)। উভয় শিশুর পিতা পেশায় রিকশাচালক।

ভাড়াউড়া গ্রামের শাহিন আহমেদ জানান বাড়ির পাশে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। সন্ধ্যা রাতে পরিবার সদস্যদের অজান্তে তারা পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। ঘণ্টাখানেক পর পুকুরে তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে।

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মনোহরদীতে শাপলা তুলতে গিয়ে ডোবায় ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, জেলার মনোরহদীতে দুই শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। তাদের নাম আমানত হোসেন (৮) এবং মাহফুজ (৬)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারুদিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শিশু আমানত হোসেন ওই গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার ছেলে এবং কোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মাহফুজ একই গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে এবং একই বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের ছাত্র।

কাচিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন খান কনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শিশু দুটি নিজ বাড়ির পাশে খেলা করছিল। তবে এরপর তাদের খুঁজে পাচ্ছিল না পরিবার সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ পরেও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাদের সন্ধানে বের হয়। বিকেলে বাড়ির পাশে ডোবায় তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পরে সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ডোবায় ফোটা শাপলা ফুল তুলে আর খেলা খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বন্যার পানিতে ডুবে দু্ই শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ও বিকালে উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ ও ব্রহ্মতর গ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

কচাকাটা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মামুন অর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া দুই শিশুর নাম লামিয়া খাতুন  ও মিমি । নিহত লামিয়া মাদারগঞ্জ গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে বলে এবং মিমি একই ইউনিয়নের ব্রহ্মতর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় আলমগীর হোসেনের বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে শিশু লামিয়ার মা হাবিবা বেগম উঠোনের একটু উঁচু জায়গায় দেড় বছরের লামিয়াকে বসিয়ে রেখে বন্যার পানিতে কাপড় কাঁচতে থাকেন। এক সময় তার অলক্ষ্যে শিশুটি পানিতে পড়ে ডুবে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। কাপড় ধোয়ার পরে শিশুটির মা তাকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার করে খুঁজতে থাকলে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকালে ইউনিয়নের ব্রহ্মতর গ্রামে বাড়ির কাছে বন্যার পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যায় ৮ বছর বয়সের মিমি।

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামে সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার ৫৬ টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আগামী ৪৮ ঘন্টা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফরিদপুরে ডোবায় ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর সংবাদাতা জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের বসুনরসিংহদিয়া গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মৃত শিশুরা হচ্ছে ওই গ্রামের সাহেদ শেখের পুত্র রাফি (৫) ও জহির মোল্লার পুত্র তারিক (৫)। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন জানান, সোমবার বিকেলে রাফি ও তারিক খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে বাড়ির পাশে একটি ডোবার পাশে তাদের স্যান্ডেল দেখে ওই ডোবা থেকে তাদের উদ্ধার করে। পরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, শিশুদুটি বসুনরসিংহদিয়া গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে বাস করতো। তবে তারিক থাকতো নানাবাড়িতে। তার বাড়ি পাশের মৃগি গ্রামে। তার বাবা ট্রাকচালক আর রাফির বাবা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। 

সতর্কতা: দেশে এখন তীব্র বন্যা চলছে। বর্ষা মৌসুমে তাই শিশুদের দিকে বেশি খেয়াল রাখুন। তাদের ঘরের বাইরে খেলাধুলা করতে দিলেও পানির কাছে যাতে না যায় সেদিকে প্রত্যেক অভিভাবককেই লক্ষ্য রাখতে হবে। স্রোত থাকায় শিশুদের বন্যার পানিতে ও নদীতে সাঁতার কাটতেও নিষেধ করুন। প্রাপ্তবয়স্করাও নদীতে অবাধে সাঁতার কাটা বা নামার আগে নদীর গতিপ্রকৃতি ও স্রোত খেয়াল করুন। বন্যার সময় নিজেকে ও পরিবার সদস্যদের রক্ষা করা নদীবর্তী প্রতিটি সুনাগরিকের কর্তব্য। আর যে কোনও সমস্যায় নিকটস্থ থানা ও ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করুন। ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি সহায়তা দিয়ে থাকে।

/টিএন/

লাইভ

টপ